ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

ওরসের পবিত্রতা বনাম জুয়ার কালো থাবা — লাখাইয়ের শান্তির পথে কাঁটা

পারভেজ হাসান লাখাই প্রতিনিধি:

লাখাই উপজেলা ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের এক পরিচিত জনপদ। অলি-আউলিয়ার ওরস উপলক্ষে এ অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে আধ্যাত্মিক আলোচনা ও দোয়ার আয়োজন হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু চক্রের কারণে এসব পবিত্র আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। ওরসের নামে আয়োজিত মেলাগুলো ক্রমেই প্রকাশ্য জুয়া ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ওরসকে ঘিরে আয়োজিত বাউল গান, সার্কাস ও লটারির আড়ালে সংঘবদ্ধ জুয়া পরিচালিত হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রায়ই গ্রামে গ্রামে মারামারি ও হানাহানির ঘটনা ঘটে। গত ১০ ডিসেম্বর মনতৈল কোনাবাড়ির ওরস উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় দিন-রাত জুয়া চলার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় আয়োজন মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, ওরসের নামে আয়োজিত মেলাগুলোতে নারী-পুরুষের অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত রাতভর চলাচল সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর আড়ালে গড়ে উঠছে অবৈধ ব্যবসা ও নানা অনৈতিক কার্যক্রম, যা দ্রুত যুব সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, ওরসের নামে এ ধরনের মেলা বন্ধ করে বিশুদ্ধ ধর্মীয় পরিবেশে ওয়াজ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা উচিত। এতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকবে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলাও কমবে।

প্রশাসনের কাছে তাদের সুস্পষ্ট আবেদন—ভবিষ্যতে কোনো মেলা বা ওরসের অনুমোদন দেওয়ার আগে এলাকার অতীতের বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করতে হবে। জুয়া বা অনৈতিকতার ন্যূনতম সুযোগ রয়েছে এমন আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। যারা ওরসের নামে ধর্মীয় পরিবেশকে কলুষিত করে জুয়া ও অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সচেতন মহলের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের নিয়ে নজরদারি কমিটি গঠন করে তদারকি জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। লাখাইয়ের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ওরসের নামে মেলার অপসংস্কৃতি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় শুধু আয়োজকদের নয়, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতিকেও বহন করতে হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

ওরসের পবিত্রতা বনাম জুয়ার কালো থাবা — লাখাইয়ের শান্তির পথে কাঁটা

আপডেট সময় ০৮:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

পারভেজ হাসান লাখাই প্রতিনিধি:

লাখাই উপজেলা ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের এক পরিচিত জনপদ। অলি-আউলিয়ার ওরস উপলক্ষে এ অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে আধ্যাত্মিক আলোচনা ও দোয়ার আয়োজন হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু চক্রের কারণে এসব পবিত্র আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। ওরসের নামে আয়োজিত মেলাগুলো ক্রমেই প্রকাশ্য জুয়া ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ওরসকে ঘিরে আয়োজিত বাউল গান, সার্কাস ও লটারির আড়ালে সংঘবদ্ধ জুয়া পরিচালিত হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রায়ই গ্রামে গ্রামে মারামারি ও হানাহানির ঘটনা ঘটে। গত ১০ ডিসেম্বর মনতৈল কোনাবাড়ির ওরস উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় দিন-রাত জুয়া চলার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় আয়োজন মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, ওরসের নামে আয়োজিত মেলাগুলোতে নারী-পুরুষের অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত রাতভর চলাচল সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর আড়ালে গড়ে উঠছে অবৈধ ব্যবসা ও নানা অনৈতিক কার্যক্রম, যা দ্রুত যুব সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, ওরসের নামে এ ধরনের মেলা বন্ধ করে বিশুদ্ধ ধর্মীয় পরিবেশে ওয়াজ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা উচিত। এতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় থাকবে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলাও কমবে।

প্রশাসনের কাছে তাদের সুস্পষ্ট আবেদন—ভবিষ্যতে কোনো মেলা বা ওরসের অনুমোদন দেওয়ার আগে এলাকার অতীতের বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করতে হবে। জুয়া বা অনৈতিকতার ন্যূনতম সুযোগ রয়েছে এমন আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। যারা ওরসের নামে ধর্মীয় পরিবেশকে কলুষিত করে জুয়া ও অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

সচেতন মহলের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের নিয়ে নজরদারি কমিটি গঠন করে তদারকি জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। লাখাইয়ের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ওরসের নামে মেলার অপসংস্কৃতি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় শুধু আয়োজকদের নয়, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতিকেও বহন করতে হবে।