ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নাসীর-সারজিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ আসছেন নাহিদ-হাসনাত-আখতার Logo হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির, মৌলভীবাজারের দুই পদযাত্রা স্থগিত Logo হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা হবিগঞ্জে আছি, যদি পারে মেরে ফেলবে: সারজিস আলম Logo হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ, আহত সারজিস আলম ও নেতাকর্মীরা Logo দেওন্দী চা বাগানে কম দরে কাঁচা চা পাতা বিক্রির অভিযোগ, শুল্ক ফাঁকির দাবি Logo মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি Logo বাহুবলে নিজ বসতঘর থেকে সাবেক ইটভাটা মালিকের মরদেহ উদ্ধার Logo সেবা বঞ্চিত লাখাইয়ের গঙ্গানগরবাসী, রোগীদের না দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ Logo চা বাগানের মেয়ে জেসমিন আক্তার রিংকুর নতুন পথচলা, আত্মপ্রকাশ করছে ‘Jesmin Tea’ Logo এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ওসি–সহ ১১ পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২১

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে দুই গ্রামের সংঘর্ষ চলাকালে ওসি–সহ ১১ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মাধবপুর থানায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ভোররাতে নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করে।

থানার এসআই পাবেল আহম্মেদ বাদী হয়ে ৭৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও এক হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা রুজু করেন। গ্রেফতারদের সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

রোববার দুপুরে ব্যাঙ্গাডোবা ও ইটাখোলা গ্রামের লোকজনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরের দিকে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে বাজারে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা–সহ মোট ১১ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওসি সহিদ উল্যা জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।”

এসময় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে শাহজীবাজার সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ২১ জন গ্রামবাসী গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতার এড়াতে শত শত মানুষ গ্রাম ছেড়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বাড়িঘর এখন প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসীর-সারজিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ আসছেন নাহিদ-হাসনাত-আখতার

error:

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ওসি–সহ ১১ পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২১

আপডেট সময় ০৬:৪৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে দুই গ্রামের সংঘর্ষ চলাকালে ওসি–সহ ১১ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মাধবপুর থানায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ভোররাতে নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করে।

থানার এসআই পাবেল আহম্মেদ বাদী হয়ে ৭৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও এক হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা রুজু করেন। গ্রেফতারদের সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

রোববার দুপুরে ব্যাঙ্গাডোবা ও ইটাখোলা গ্রামের লোকজনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরের দিকে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে বাজারে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা–সহ মোট ১১ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওসি সহিদ উল্যা জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।”

এসময় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে শাহজীবাজার সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ২১ জন গ্রামবাসী গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতার এড়াতে শত শত মানুষ গ্রাম ছেড়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বাড়িঘর এখন প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।