ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি Logo মাধবপুরের আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান মোত্তাকিম চৌধুরী Logo দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মোঃ জাহিদুল ইসলাম Logo দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন বাহুবল মডেল থানা-র ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম Logo চাঁদপুরের এক গ্রামে ৭ মুসল্লি নিয়ে ঈদ উদযাপন Logo আ.লীগের কার্যক্রম বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে: মির্জা ফখরুল Logo জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, ক্ষমতার দাপট দেখালে রেহাই নেই: এমপি ফয়সল Logo সাংবাদিকদের কল্যাণে নানান উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বাছির জামাল Logo মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে বাছির মিয়া আটক Logo মানবিক কাজে এগিয়ে সিমি কিবরিয়া, বদলে যাচ্ছে জনপদের চিত্র

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ওসি–সহ ১১ পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২১

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে দুই গ্রামের সংঘর্ষ চলাকালে ওসি–সহ ১১ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মাধবপুর থানায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ভোররাতে নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করে।

থানার এসআই পাবেল আহম্মেদ বাদী হয়ে ৭৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও এক হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা রুজু করেন। গ্রেফতারদের সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

রোববার দুপুরে ব্যাঙ্গাডোবা ও ইটাখোলা গ্রামের লোকজনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরের দিকে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে বাজারে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা–সহ মোট ১১ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওসি সহিদ উল্যা জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।”

এসময় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে শাহজীবাজার সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ২১ জন গ্রামবাসী গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতার এড়াতে শত শত মানুষ গ্রাম ছেড়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বাড়িঘর এখন প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি

error:

মাধবপুরের নোয়াপাড়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ওসি–সহ ১১ পুলিশ আহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২১

আপডেট সময় ০৬:৪৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে দুই গ্রামের সংঘর্ষ চলাকালে ওসি–সহ ১১ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মাধবপুর থানায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ভোররাতে নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করে।

থানার এসআই পাবেল আহম্মেদ বাদী হয়ে ৭৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও এক হাজার জনকে আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা রুজু করেন। গ্রেফতারদের সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ কবির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

রোববার দুপুরে ব্যাঙ্গাডোবা ও ইটাখোলা গ্রামের লোকজনের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরের দিকে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র হাতে বাজারে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্যা–সহ মোট ১১ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওসি সহিদ উল্যা জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।”

এসময় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে শাহজীবাজার সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ২১ জন গ্রামবাসী গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, গ্রেফতার এড়াতে শত শত মানুষ গ্রাম ছেড়ে আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেক বাড়িঘর এখন প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।