
আবু জাহের, মালদ্বীপ প্রতিনিধি:
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের সমাজ কল্যাণ ও পরিবার উন্নয়ন বিষয়ক মাননীয় মন্ত্রী ড. আয়শাথ শিহামের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সাক্ষাতে সামাজিক কল্যাণ, পরিবার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সামাজিক সুস্থতা বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক উন্নয়ন ও পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষণে অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটে। আলোচনাকালে মাননীয় মন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এর মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সেবা প্রদান, শিশু নির্যাতনের শিকারদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং সামাজিক ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য।
মাননীয় মন্ত্রী মালদ্বীপে বিদ্যমান সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে এসব মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি মালদ্বীপের উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এবং জানান, সামাজিক ও পরিবার উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রবাসী পরিবার ও শিশুদের সহায়তা প্রদান করে থাকে।
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিবাহ বন্ধনকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ও সামাজিক সংহতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিজ বক্তব্যে মান্যবর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি মালদ্বীপ সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহানুভূতিশীল নীতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক সংহতি, পারিবারিক কল্যাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পরিবার কল্যাণ, শিশু সুরক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে যৌথ সেমিনার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা অন্বেষণে সম্মত হয়। এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকটি সামাজিক ও পরিবার উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের অভিন্ন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























