ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ Logo দোয়ারাবাজারে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন

মাধবপুরে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধে অভিযান: সিন্ডিকেটের হুমকি ও হয়রানির শিকার এসআই নাজমুল—এলাকাবাসীর ক্ষোভ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন কামরুল ও মোশারফ।

জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়াইন রোডসংলগ্ন পলাশ ব্রিক ফিল্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভেকু দিয়ে ফসলি ও উর্বর জমির মাটি কেটে দিন-রাত ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছে এই চক্র। যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ভূমি আইন ও ফৌজদারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের একটি সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই তুলে নিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মাটি কাটার পাশাপাশি জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

গত ১৩ জানুয়ারি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে, মাধবপুর থানা পুলিশ এসআই নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় সরেজমিন তদন্ত চালায়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরদিন উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে কিছুদিনের জন্য সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে ১৭ জানুয়ারি পুলিশ মূলহোতা কামরুলকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারের পর থেকেই কামরুলকে ছাড়িয়ে নিতে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তদবির, চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হাসানকে হয়রানি করতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক ও মহল থেকে ফোন করানো হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ যদি অপরাধ দমনে এগিয়ে এসে হয়রানির শিকার হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ এসব অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পাবে না। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

স্থানীয়রা দ্রুত এই সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে অবৈধ মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কামরুলের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মোতাকাব্বির বাদী হয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একটি ভেকু ও একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়।

এছাড়াও ঢাকার বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়

error:

মাধবপুরে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধে অভিযান: সিন্ডিকেটের হুমকি ও হয়রানির শিকার এসআই নাজমুল—এলাকাবাসীর ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৯:৫৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন কামরুল ও মোশারফ।

জানা গেছে, উপজেলার ছাতিয়াইন রোডসংলগ্ন পলাশ ব্রিক ফিল্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভেকু দিয়ে ফসলি ও উর্বর জমির মাটি কেটে দিন-রাত ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছে এই চক্র। যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ভূমি আইন ও ফৌজদারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের একটি সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই তুলে নিয়ে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মাটি কাটার পাশাপাশি জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

গত ১৩ জানুয়ারি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে, মাধবপুর থানা পুলিশ এসআই নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় সরেজমিন তদন্ত চালায়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরদিন উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে কিছুদিনের জন্য সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে ১৭ জানুয়ারি পুলিশ মূলহোতা কামরুলকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারের পর থেকেই কামরুলকে ছাড়িয়ে নিতে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তদবির, চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হাসানকে হয়রানি করতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক ও মহল থেকে ফোন করানো হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ যদি অপরাধ দমনে এগিয়ে এসে হয়রানির শিকার হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ এসব অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সাহস পাবে না। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

স্থানীয়রা দ্রুত এই সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে আইনের আওতায় এনে অবৈধ মাটি উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কামরুলের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মোতাকাব্বির বাদী হয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একটি ভেকু ও একটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়।

এছাড়াও ঢাকার বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।