
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের শিমূলঘর গ্রামে কুলখানির খাবার খেয়ে কয়েক শত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোমবার রাত আনুমানিক দেড়টার পর থেকে একে একে গ্রামবাসীরা অসুস্থ হতে শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমূলঘর দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা মো. মিঞা হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার তাঁর পরিবার কুলখানির আয়োজন করে। তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়ার শ্বশুর। এ উপলক্ষে দুটি মহিষ জবাই করে গ্রামবাসী ও আগত অতিথিদের জন্য জিয়াফতের ব্যবস্থা করা হয়।
খাবার গ্রহণের কিছু সময়ের মধ্যেই অনেকের ডায়রিয়া, পেটে তীব্র ব্যথা, বমি ও শারীরিক দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী কয়েক শত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নান্নু মিয়া জানান, কুলখানির খাবার খাওয়ার পর থেকেই তিনি পাতলা পায়খানা ও পেটে ব্যথায় ভুগছেন। ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মাসুদও একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন।
শিমূলঘর গ্রামের দোকানদার টিপন মিয়া বলেন, তাঁর ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থাকলেও পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনুষ্ঠান স্থগিত করতে হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা এফ জামান জানান, গ্রামবাসীর শত শত মানুষ ওই খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়েছেন।
মাধবপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাংবাদিক এম এ কাদের বলেন, তিনি নিজেও অসুস্থ এবং সকাল থেকেই স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ কিনতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী শাহ মামুন জানান, ফজরের নামাজের পর থেকেই শত শত মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধ নিচ্ছেন। তিনিও ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন।
ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, তিনি তাবারক হিসেবে অল্প পরিমাণ মাংস খাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন, এটি খাবারজনিত বিষক্রিয়ার ঘটনা হতে পারে। গুরুতর অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় গ্রামবাসীদের অনেকেই রান্নার দায়িত্বে থাকা বাবুর্চির দিকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বাবুর্চি মাফুজ মিয়া জানান, খাবার প্রস্তুতের সময় কোনো উপকরণে সমস্যা থাকলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















