ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না: মনির হোসেন চৌধুরী Logo জমি দিলে তার নামেই স্কুল, সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী Logo বানিয়াচংয়ে কালী মন্দিরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার লুট Logo জনবল সংকটে প্রশাসন, তবুও থেমে নেই বাহুবল: প্রশংসায় ইউএনও উজ্জ্বল রায় Logo ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo চুনারুঘাটে সরকারি টাকা জমা ছাড়াই বালু বিক্রির অভিযোগ, ৩ ট্রাক জব্দ Logo মাধবপুরে ফারুক হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার Logo এক হাতে ফোন, অন্য হাতে স্টিয়ারিং: লাখাইয়ে ঝুঁকিতে যাত্রীজীবন Logo চুনারুঘাটে বিরল লজ্জাবতী বানর উদ্ধার Logo আগামী সপ্তাহে খুলছে ভারতের ভিসা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

লাখাইয়ের করাবে টিসিবি পণ্য বিতরণে চরম অব্যবস্থা

লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। ২৭ নভেম্বর সকালে বিতরণ শুরু হলেও দিনশেষে ১৪২ জন কার্ডধারী অভিযোগ করেছেন যে তারা বরাদ্দকৃত পণ্য পাননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুবিধাভোগী মানুষ এবং ডিলারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে করাব ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য বিতরণ শুরু হয়। নারী-পুরুষ সকল কার্ডধারী সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেলের দিকে হতাশ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নন্দ ট্রেডার্সের টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় ঘোষণা করেন যে তাদের গোডাউনে পণ্য শেষ হয়ে গেছে এবং ১৪২ জন কার্ডধারী মাল পাননি। এতে ক্ষুব্ধ জনতা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।

ডিলার পিন্টু রায় জানান, তিনি মোট ৬৯৮টি পণ্য পেয়েছেন এবং সেগুলোই বিতরণ করেছেন। নতুন কার্ডের জন্য কোনো পণ্য পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ ভিন্ন—তাদের দাবি, বাস্তবে নতুন কার্ডধারীরা পণ্য পেলেও পুরাতন কার্ডধারীরা অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। তাহলে এই ১৪২ জনের পণ্য গেল কোথায়—এ প্রশ্ন এখন এলাকাজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়নে ৬৯৮টি পণ্যই এসেছিল এবং সেগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। তবে ১৪২ জন সুবিধাভোগীর পণ্য না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও বিতরণের সংখ্যার মধ্যে এমন অসঙ্গতি অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাস জানান, “বিষয়টি আমি দেখছি।”
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বঞ্চিত ১৪২ কার্ডধারীকে তাদের প্রাপ্য পণ্য নিশ্চিত করাও প্রশাসনের জরুরি দায়িত্ব।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না: মনির হোসেন চৌধুরী

error:

লাখাইয়ের করাবে টিসিবি পণ্য বিতরণে চরম অব্যবস্থা

আপডেট সময় ১০:৫৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিতরণে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। ২৭ নভেম্বর সকালে বিতরণ শুরু হলেও দিনশেষে ১৪২ জন কার্ডধারী অভিযোগ করেছেন যে তারা বরাদ্দকৃত পণ্য পাননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুবিধাভোগী মানুষ এবং ডিলারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে করাব ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য বিতরণ শুরু হয়। নারী-পুরুষ সকল কার্ডধারী সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেলের দিকে হতাশ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নন্দ ট্রেডার্সের টিসিবি ডিলার পিন্টু রায় ঘোষণা করেন যে তাদের গোডাউনে পণ্য শেষ হয়ে গেছে এবং ১৪২ জন কার্ডধারী মাল পাননি। এতে ক্ষুব্ধ জনতা তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।

ডিলার পিন্টু রায় জানান, তিনি মোট ৬৯৮টি পণ্য পেয়েছেন এবং সেগুলোই বিতরণ করেছেন। নতুন কার্ডের জন্য কোনো পণ্য পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে সুবিধাভোগীদের অভিযোগ ভিন্ন—তাদের দাবি, বাস্তবে নতুন কার্ডধারীরা পণ্য পেলেও পুরাতন কার্ডধারীরা অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। তাহলে এই ১৪২ জনের পণ্য গেল কোথায়—এ প্রশ্ন এখন এলাকাজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।

ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়নে ৬৯৮টি পণ্যই এসেছিল এবং সেগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। তবে ১৪২ জন সুবিধাভোগীর পণ্য না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও বিতরণের সংখ্যার মধ্যে এমন অসঙ্গতি অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুপম দাস জানান, “বিষয়টি আমি দেখছি।”
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বঞ্চিত ১৪২ কার্ডধারীকে তাদের প্রাপ্য পণ্য নিশ্চিত করাও প্রশাসনের জরুরি দায়িত্ব।