ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিএনপিতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমের ঠাঁই নেই: এমপি ফয়সল Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষক ১৫ বছর ধরে বেতনহীন Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে সিসি ক্যামেরা অচল, দফায় দফায় চুরিতে ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক Logo এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ Logo বাহুবলে অবৈধ বালুর বিরুদ্ধে রাতভর ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের অভিযান, ৫০০ ঘনফুট বালুসহ ২ ট্রাক্টর জব্দ Logo লাখাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, সরগরম রাজনৈতিক মাঠ Logo ঢাকার হাজারীবাগে নামাজ পড়তে বের হয়ে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ শিশু আবদুল্লাহ Logo বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আবদাল সভাপতি, শাহাজাহান সাধারণ সম্পাদক Logo বিজয়নগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হবে দুই মাসে Logo চুনারুঘাটের নালুয়া চা বাগান থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

লাখাইয়ে ৪২ কেজিতে মন ধান কেনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষক, প্রতিবাদে সরব এলাকাবাসী

পারভেজ হাসান, লাখাই থেকে:
লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধান কেনাবেচায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এক অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় পাইকাররা ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজিতে এক মন ধান কিনছেন, যা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দেশের সর্বত্রই ৪০ কেজিতে এক মন হিসেবে ধান বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু লাখাইয়ের বাজারগুলোতে পাইকাররা প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান নিচ্ছেন। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক হারুন বলেন, “আমি আজ বুল্লা বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে জানতে পারলাম ৪২ কেজিতে এক মন। বাধ্য হয়ে আমাকে এ নিয়মেই ধান বিক্রি করতে হলো। এটা আমাদের জন্য চরম অন্যায়।”

আরেক কৃষক মারিফত হাসান জানান, কিছুদিন আগে তিনি ৭০ মন ধান বিক্রি করেছেন এবং প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান দিতে হয়েছে। “আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন পাইকাররা। পরিশ্রম করে উৎপাদিত ধান থেকে জোর করে অতিরিক্ত ২ কেজি নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।”

কৃষক মামুনুর রশিদ বলেন, “আজ আমি সাড়ে ১৩ মন ধান বিক্রি করেছি। ৪২ কেজি মনে বিক্রি করার কারণে আমার কাছ থেকে ২৭ কেজি ধান বেশি নেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি ধান আমার পরিশ্রমের ফসল, যা আমাকে জোর করে দিতে হয়েছে।”

লাখাইয়ের কৃষক ও এলাকাবাসী এই প্রথার অবসান চান। তাদের প্রশ্ন—যেখানে ৮০ তোলায় এক সের এবং ৪০ সেরে এক মন নির্ধারিত, সেখানে কেন ৪২ কেজিকে এক মন ধরা হচ্ছে? তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই অনিয়ম বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপিতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমের ঠাঁই নেই: এমপি ফয়সল

error:

লাখাইয়ে ৪২ কেজিতে মন ধান কেনা নিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষক, প্রতিবাদে সরব এলাকাবাসী

আপডেট সময় ১২:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

পারভেজ হাসান, লাখাই থেকে:
লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধান কেনাবেচায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এক অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় পাইকাররা ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজিতে এক মন ধান কিনছেন, যা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দেশের সর্বত্রই ৪০ কেজিতে এক মন হিসেবে ধান বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু লাখাইয়ের বাজারগুলোতে পাইকাররা প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান নিচ্ছেন। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক হারুন বলেন, “আমি আজ বুল্লা বাজারে ধান বিক্রি করতে এসে জানতে পারলাম ৪২ কেজিতে এক মন। বাধ্য হয়ে আমাকে এ নিয়মেই ধান বিক্রি করতে হলো। এটা আমাদের জন্য চরম অন্যায়।”

আরেক কৃষক মারিফত হাসান জানান, কিছুদিন আগে তিনি ৭০ মন ধান বিক্রি করেছেন এবং প্রতি মনে ২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান দিতে হয়েছে। “আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছেন পাইকাররা। পরিশ্রম করে উৎপাদিত ধান থেকে জোর করে অতিরিক্ত ২ কেজি নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।”

কৃষক মামুনুর রশিদ বলেন, “আজ আমি সাড়ে ১৩ মন ধান বিক্রি করেছি। ৪২ কেজি মনে বিক্রি করার কারণে আমার কাছ থেকে ২৭ কেজি ধান বেশি নেওয়া হয়েছে। এই বাড়তি ধান আমার পরিশ্রমের ফসল, যা আমাকে জোর করে দিতে হয়েছে।”

লাখাইয়ের কৃষক ও এলাকাবাসী এই প্রথার অবসান চান। তাদের প্রশ্ন—যেখানে ৮০ তোলায় এক সের এবং ৪০ সেরে এক মন নির্ধারিত, সেখানে কেন ৪২ কেজিকে এক মন ধরা হচ্ছে? তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এই অনিয়ম বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।