ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, উৎসবের আমেজ Logo মাধবপুরে টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে এখন কাজ নেই Logo আইফোনের এআই ফিচার নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন: গ্রাহকদের ২৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে অ্যাপল Logo রাঢ়িশাল করাব উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবির Logo মদিনায় মসজিদে নববী থেকে বিশ্বম্ভরপুরের ওমরাহযাত্রী নারী নিখোঁজ, পরিবারের আকুতি Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারে গিয়ে পালানোর সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ, এসআই ক্লোজড Logo লাখাইয়ের কৃতি সন্তান ডা. জি এম মঈন উদ্দিন পেলেন PGPN সার্টিফিকেট Logo আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ Logo ইউপি নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন: বেড়েছে ব্যয়সীমা, জামানত ও প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা Logo মাধবপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

অভ্যুত্থানের ক্ষতিপূরণের টাকা আত্নসাৎ, হাতেনাতে ধরা একজন

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারদের সহায়তায় সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যাচ্ছে। এমনকি, অনেক পরিবার এখনও তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থের বিনিময়ে জালিয়াতির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা অর্থের বিনিময়ে কাগজপত্র প্রস্তুত করে দিচ্ছে। এমনই এক অভিযুক্ত আফরিনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।

হাফিজা আক্তার (হ্যাপি) নামে এক শহীদ পরিবারের সদস্য জানান, তার স্বামী আহসান শরীফের নাম রাষ্ট্রীয় তালিকায় থাকলেও সহায়তা পেতে তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। একইভাবে, নারায়ণগঞ্জের অঙ্কন দাস, বেলাল হোসেন ও বুলবুল শিকদারের পরিবারও অভিযোগ করেন যে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। আফরিন নামের এক নারী, যিনি আগে এনসিপির নারায়ণগঞ্জ শাখার সংগঠক ছিলেন, তিনি শহীদ ও আহত পরিবারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত হন।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, আফরিন একাধিক সংস্থা থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করতেন। তিনি পরিবারগুলোকে বলতেন, *”আপনি যদি ১০ হাজার টাকা দেন, তাহলে পরবর্তী অনুদান পাবেন, নইলে পাবেন না।”* এমনকি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ২০ হাজার টাকার মধ্যে অর্ধেক আদায়ের চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, *”যারা শহীদ ও আহতদের সহায়তায় নিয়োজিত, তাদের এমন কাজে লিপ্ত হওয়া অমার্জনীয়।”* সংগঠনটি বিষয়টি তদন্ত করে আফরিনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

অনেক আহত ও শহীদ পরিবার এখনও তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যারা সুস্থ রয়েছেন, তাদেরও আহত ও শহীদ পরিবারদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি সহায়তা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? দুর্নীতি রোধে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐতিহাসিক আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবাররা আরও বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, উৎসবের আমেজ

error:

অভ্যুত্থানের ক্ষতিপূরণের টাকা আত্নসাৎ, হাতেনাতে ধরা একজন

আপডেট সময় ১১:৪৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারদের সহায়তায় সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যাচ্ছে। এমনকি, অনেক পরিবার এখনও তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থের বিনিময়ে জালিয়াতির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা অর্থের বিনিময়ে কাগজপত্র প্রস্তুত করে দিচ্ছে। এমনই এক অভিযুক্ত আফরিনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।

হাফিজা আক্তার (হ্যাপি) নামে এক শহীদ পরিবারের সদস্য জানান, তার স্বামী আহসান শরীফের নাম রাষ্ট্রীয় তালিকায় থাকলেও সহায়তা পেতে তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। একইভাবে, নারায়ণগঞ্জের অঙ্কন দাস, বেলাল হোসেন ও বুলবুল শিকদারের পরিবারও অভিযোগ করেন যে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। আফরিন নামের এক নারী, যিনি আগে এনসিপির নারায়ণগঞ্জ শাখার সংগঠক ছিলেন, তিনি শহীদ ও আহত পরিবারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত হন।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, আফরিন একাধিক সংস্থা থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করতেন। তিনি পরিবারগুলোকে বলতেন, *”আপনি যদি ১০ হাজার টাকা দেন, তাহলে পরবর্তী অনুদান পাবেন, নইলে পাবেন না।”* এমনকি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ২০ হাজার টাকার মধ্যে অর্ধেক আদায়ের চেষ্টাও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, *”যারা শহীদ ও আহতদের সহায়তায় নিয়োজিত, তাদের এমন কাজে লিপ্ত হওয়া অমার্জনীয়।”* সংগঠনটি বিষয়টি তদন্ত করে আফরিনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

অনেক আহত ও শহীদ পরিবার এখনও তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যারা সুস্থ রয়েছেন, তাদেরও আহত ও শহীদ পরিবারদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি সহায়তা প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? দুর্নীতি রোধে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐতিহাসিক আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবাররা আরও বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।