ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না: মনির হোসেন চৌধুরী Logo জমি দিলে তার নামেই স্কুল, সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী Logo বানিয়াচংয়ে কালী মন্দিরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কার লুট Logo জনবল সংকটে প্রশাসন, তবুও থেমে নেই বাহুবল: প্রশংসায় ইউএনও উজ্জ্বল রায় Logo ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo চুনারুঘাটে সরকারি টাকা জমা ছাড়াই বালু বিক্রির অভিযোগ, ৩ ট্রাক জব্দ Logo মাধবপুরে ফারুক হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার Logo এক হাতে ফোন, অন্য হাতে স্টিয়ারিং: লাখাইয়ে ঝুঁকিতে যাত্রীজীবন Logo চুনারুঘাটে বিরল লজ্জাবতী বানর উদ্ধার Logo আগামী সপ্তাহে খুলছে ভারতের ভিসা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সংসদ নির্বাচনে মাধবপুরে আনসার বাহিনীর ডিউটিতে অনিয়মের অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিউটি বরাদ্দ, সদস্য নিয়োগ ও ভাতা প্রদানকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী–এর স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, ভাতা আত্মসাৎ ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা কমান্ডারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাধবপুর উপজেলার ৯৪টি কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে মোট ১ হাজার ২২২ জন আনসার সদস্য ডিউটির জন্য নিয়োজিত হন। সরকারিভাবে প্রত্যেক সদস্যের জন্য ৮ হাজার ২৬০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও তালিকাভুক্ত সদস্যদের দায়িত্ব না দিয়ে কয়েকশ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ডিউটিতে নিয়োগ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার ওয়াহাব ও দলনেতা হাবিব মিয়া নিয়মিত সদস্যদের পরিবর্তে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বদলি হিসেবে নিয়োগ দেন। ডিউটির সময় তাদের নিজস্ব নাম গোপন রেখে অন্য নাম ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী তোফাজ্জল জানান, অস্থায়ী আনসার সদস্য কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি ছবি ও ১০০ টাকা নেওয়া হয়। ডিউটি শেষে তাকে দেওয়া হয় মাত্র ২ হাজার টাকা। পরে তিনি জানতে পারেন, সরকারিভাবে তার নামে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ২৬০ টাকা। প্রাপ্য ভাতা চাইতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ফয়সল মিয়া ও নাজির মিয়ার স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের কবিলপুর গ্রামের অন্তত ৩০ জন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে একইভাবে ডিউটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও তালিকাভুক্ত সদস্য নাজির মিয়া ও হেলাল মিয়া জানান, ডিউটির জন্য যোগাযোগ করলে তাদের জানানো হয় জেলা তালিকায় নাম নেই। ফলে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তবে নির্বাচন শেষে হঠাৎ তাদের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৮ হাজার ২৬০ টাকা জমা হয়। পরে দলনেতা ফোন করে জানান, ভুলবশত টাকা চলে গেছে এবং তা ফেরত দিতে হবে। কর্মকর্তাদের কথায় বিশ্বাস করে তারা অর্থ ফেরত দেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, তাদের নাম ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি ডিউটি পালন করেছেন এবং সরকারি ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।

দুটি অভিযোগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড বাহিনীর শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। ভুক্তভোগীরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য ভাতা প্রদান, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আনসার কর্মকর্তা মুকুল কানন দাবি করেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে দায়িত্বে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং নির্বাচনী ডিউটিতে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অনুমোদিত সদস্যদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মজিবুল হক জানান, এ বিষয়ে দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে যেসব সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন, তদন্ত শেষে তাদের প্রাপ্য সকল টাকা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না: মনির হোসেন চৌধুরী

error:

সংসদ নির্বাচনে মাধবপুরে আনসার বাহিনীর ডিউটিতে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিউটি বরাদ্দ, সদস্য নিয়োগ ও ভাতা প্রদানকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী–এর স্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, ভাতা আত্মসাৎ ও পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা কমান্ডারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাধবপুর উপজেলার ৯৪টি কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে মোট ১ হাজার ২২২ জন আনসার সদস্য ডিউটির জন্য নিয়োজিত হন। সরকারিভাবে প্রত্যেক সদস্যের জন্য ৮ হাজার ২৬০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও তালিকাভুক্ত সদস্যদের দায়িত্ব না দিয়ে কয়েকশ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে ডিউটিতে নিয়োগ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার ওয়াহাব ও দলনেতা হাবিব মিয়া নিয়মিত সদস্যদের পরিবর্তে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বদলি হিসেবে নিয়োগ দেন। ডিউটির সময় তাদের নিজস্ব নাম গোপন রেখে অন্য নাম ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী তোফাজ্জল জানান, অস্থায়ী আনসার সদস্য কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি ছবি ও ১০০ টাকা নেওয়া হয়। ডিউটি শেষে তাকে দেওয়া হয় মাত্র ২ হাজার টাকা। পরে তিনি জানতে পারেন, সরকারিভাবে তার নামে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ২৬০ টাকা। প্রাপ্য ভাতা চাইতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ফয়সল মিয়া ও নাজির মিয়ার স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের কবিলপুর গ্রামের অন্তত ৩০ জন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে একইভাবে ডিউটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও তালিকাভুক্ত সদস্য নাজির মিয়া ও হেলাল মিয়া জানান, ডিউটির জন্য যোগাযোগ করলে তাদের জানানো হয় জেলা তালিকায় নাম নেই। ফলে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তবে নির্বাচন শেষে হঠাৎ তাদের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৮ হাজার ২৬০ টাকা জমা হয়। পরে দলনেতা ফোন করে জানান, ভুলবশত টাকা চলে গেছে এবং তা ফেরত দিতে হবে। কর্মকর্তাদের কথায় বিশ্বাস করে তারা অর্থ ফেরত দেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন, তাদের নাম ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি ডিউটি পালন করেছেন এবং সরকারি ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।

দুটি অভিযোগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড বাহিনীর শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। ভুক্তভোগীরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য ভাতা প্রদান, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আনসার কর্মকর্তা মুকুল কানন দাবি করেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে দায়িত্বে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং নির্বাচনী ডিউটিতে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অনুমোদিত সদস্যদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মজিবুল হক জানান, এ বিষয়ে দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে যেসব সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন, তদন্ত শেষে তাদের প্রাপ্য সকল টাকা যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।