
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। মাত্র ৭৫ টাকার একটি ইনজেকশন প্রয়োগের জন্য রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ২৫০০ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ১২০০ টাকায় ইনজেকশন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, ‘টোরালাক্স’ (কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন) নামের একটি ইনজেকশন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ টাকা। এটি নন-স্টেরয়ডাল এন্টি-ইনফ্লামেটরি শ্রেণির একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ। অথচ এই ইনজেকশন প্রয়োগের জন্য অস্বাভাবিক অর্থ দাবি করায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আফছার চৌধুরী তার স্ত্রী জাহেরা বেগমকে চিকিৎসার জন্য মাধবপুর তিতাস-২ (নিউ তিতাস) ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ডা. ওয়াসিম রোগী দেখার পর ব্যবস্থাপত্রে কোনো ইনজেকশনের নাম উল্লেখ না থাকলেও ব্যথা উপশমের জন্য টোরালাক্স ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ইনজেকশন প্রয়োগের খরচ জানতে চাইলে প্রথমে ২৫০০ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ১৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হলে রোগীর স্বজনরা রাজি হন। তবে ক্লিনিকের ফার্মেসিতে ইনজেকশন না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, ইনজেকশনের প্রকৃত মূল্য মাত্র ৭৫ টাকা। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইনজেকশনের দাম বাদ দিয়েই শুধুমাত্র প্রয়োগের জন্য এ অর্থ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাধবপুরের কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। ফলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ছাড়া অন্য কেউ ইন্ট্রা-আর্টিকুলার ইনজেকশন দিতে পারেন না। চিকিৎসক ভেদে এ ধরনের ইনজেকশন প্রয়োগে ১০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনিয়ম বন্ধে শিগগিরই মনিটরিং জোরদার করা হবে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস জানান, মাধবপুরের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সচেতন মহলের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু কিছু অসাধু চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকের কারণে এ খাতটি ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ এভাবে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হতে থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
















