ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, ভূমিধসের শঙ্কা ৫ জেলায় Logo আইজিপির সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, পুলিশি সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা Logo প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন Logo কৃষি কর্মকর্তার পরিদর্শনে প্রশংসিত লাখাইয়ের কৃষকদের কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র Logo হাইমচরে ইয়াবাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পাচ্ছেন সিংহগ্রামের ৭৩৩ প্রান্তিক কৃষক Logo লাখাইয়ে পোনা নিধন বন্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জেলা প্রশাসকের Logo নাসিরনগরে এক মাসে ১০ প্রাণহানি, উদ্বেগ-আতঙ্কে এলাকাবাসী Logo মাধবপুরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

স্বৈরাচার পতনে ১৬ বছর অপেক্ষা নয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি: ড. ইউনূস

বাংলার খবর ডেস্ক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “স্বৈরাচার পতনে যেন ১৬ বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সেই কাজ আমরা করছি।” তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচার হতে চাইলে জনগণ যেন সঙ্গে সঙ্গেই তার পতন ঘটাতে পারে। কারণ, জনগণ রাস্তায় নামলে কোনো শক্তি তা রুখতে পারে না।”

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধুমাত্র আবেগ নয়, এটি একটি রাষ্ট্র রূপান্তরের সূচনা ছিল। ১৬ বছর আগে যে বিদ্রোহ হয়েছিল, তার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হলেও, বৃহত্তর স্বপ্ন ছিল— নতুন বাংলাদেশ গঠন।”

তিনি বলেন, “প্রতি বছর এই সময়টায় আমরা স্মরণ করব, যেন আর কখনো দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন না হয়। কোনো স্বৈরাচারের চিহ্ন দেখলেই তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি থাকবে। আমরা যেন স্বৈরাচারের প্রথম পাতাই খুলতে না দিই।”

তিনি দেশের সাধারণ মানুষ, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী সবার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বলেন, “যারা গত বছর গণতন্ত্রের পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, তারা আমাদের প্রেরণা। সেই ঐক্য আবার জাগিয়ে তুলতে হবে।”

মাসব্যাপী এই কর্মসূচিকে ‘স্মরণ নয়, বরং নতুন শপথ’ আখ্যা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া পরিবর্তনের সুযোগ যেন হারিয়ে না যায়— সেটিই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।”

তিনি বলেন, “সামনের পথ কঠিন হলেও সম্ভাবনাময়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জাগ্রত জনগণকে কেউ দমাতে পারে না। আসুন, এই জুলাই মাসকে করি গণজাগরণের মাস, ঐক্যের মাস।”

সমাপ্তিতে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের পুনরুত্থান কর্মসূচি আমাদের স্বপ্নকে পুনর্জীবিত করুক, আমাদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হোক— এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, ভূমিধসের শঙ্কা ৫ জেলায়

error:

স্বৈরাচার পতনে ১৬ বছর অপেক্ষা নয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি: ড. ইউনূস

আপডেট সময় ০১:৩২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “স্বৈরাচার পতনে যেন ১৬ বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সেই কাজ আমরা করছি।” তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচার হতে চাইলে জনগণ যেন সঙ্গে সঙ্গেই তার পতন ঘটাতে পারে। কারণ, জনগণ রাস্তায় নামলে কোনো শক্তি তা রুখতে পারে না।”

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধুমাত্র আবেগ নয়, এটি একটি রাষ্ট্র রূপান্তরের সূচনা ছিল। ১৬ বছর আগে যে বিদ্রোহ হয়েছিল, তার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হলেও, বৃহত্তর স্বপ্ন ছিল— নতুন বাংলাদেশ গঠন।”

তিনি বলেন, “প্রতি বছর এই সময়টায় আমরা স্মরণ করব, যেন আর কখনো দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন না হয়। কোনো স্বৈরাচারের চিহ্ন দেখলেই তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি থাকবে। আমরা যেন স্বৈরাচারের প্রথম পাতাই খুলতে না দিই।”

তিনি দেশের সাধারণ মানুষ, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী সবার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বলেন, “যারা গত বছর গণতন্ত্রের পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, তারা আমাদের প্রেরণা। সেই ঐক্য আবার জাগিয়ে তুলতে হবে।”

মাসব্যাপী এই কর্মসূচিকে ‘স্মরণ নয়, বরং নতুন শপথ’ আখ্যা দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং রক্তের বিনিময়ে পাওয়া পরিবর্তনের সুযোগ যেন হারিয়ে না যায়— সেটিই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।”

তিনি বলেন, “সামনের পথ কঠিন হলেও সম্ভাবনাময়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জাগ্রত জনগণকে কেউ দমাতে পারে না। আসুন, এই জুলাই মাসকে করি গণজাগরণের মাস, ঐক্যের মাস।”

সমাপ্তিতে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের পুনরুত্থান কর্মসূচি আমাদের স্বপ্নকে পুনর্জীবিত করুক, আমাদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হোক— এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”