ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

বিয়ের প্রলোভনে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ, যোগাযোগ বন্ধে লাখাইয়ে অনশন তরুণীর!

**লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:**

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় এনে এক তরুণীকে ধর্ষণ, পরে যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপন— এমন অভিযোগে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের দুই যুবকের বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনশন শেষে ভুক্তভোগী তরুণী অবশেষে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের ফুরুক মিয়ার ছেলে মো. ইব্রাহীম মিয়া (২৪) ও তার বড় ভাই রুহুল আমিন (৩৪)-কে। ভুক্তভোগী সুইটি আক্তার (২২) (পিতা– মো. ফিরোজ মিয়া, জামালপুর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ (পিটিশন মামলা নং– /২০২৫) এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ইব্রাহীম মিয়া তরুণীকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে তোপখানা রোডের হোটেল মৃগয়া-র তৃতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে কাজী বা সাক্ষী ছাড়াই রাতভর ধর্ষণ করেন। পরদিন সকাল পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণের পর তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে ইব্রাহীম ওষুধ এনে আশ্বস্ত করেন।

এরপর ইব্রাহীম তাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে অবস্থান করেন এবং পরে সব যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। ন্যায়বিচারের আশায় তরুণী সুইটি আক্তার লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামে ইব্রাহীমের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন।

এ সময় ইব্রাহীমের ভাই রুহুল আমিন ভুক্তভোগীকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তার গলায় থাকা ১২ আনা তিন রতি ওজনের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং চিকিৎসা প্রতিবেদনে ধর্ষণের সত্যতা মিলেছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী–২০২৫) এর ৯(খ) ধারাসহ প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

error:

বিয়ের প্রলোভনে ঢাকায় নিয়ে ধর্ষণ, যোগাযোগ বন্ধে লাখাইয়ে অনশন তরুণীর!

আপডেট সময় ০৪:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

**লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:**

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় এনে এক তরুণীকে ধর্ষণ, পরে যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপন— এমন অভিযোগে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের দুই যুবকের বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনশন শেষে ভুক্তভোগী তরুণী অবশেষে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের ফুরুক মিয়ার ছেলে মো. ইব্রাহীম মিয়া (২৪) ও তার বড় ভাই রুহুল আমিন (৩৪)-কে। ভুক্তভোগী সুইটি আক্তার (২২) (পিতা– মো. ফিরোজ মিয়া, জামালপুর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ (পিটিশন মামলা নং– /২০২৫) এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ইব্রাহীম মিয়া তরুণীকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে তোপখানা রোডের হোটেল মৃগয়া-র তৃতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে কাজী বা সাক্ষী ছাড়াই রাতভর ধর্ষণ করেন। পরদিন সকাল পর্যন্ত একাধিকবার ধর্ষণের পর তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে ইব্রাহীম ওষুধ এনে আশ্বস্ত করেন।

এরপর ইব্রাহীম তাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জে অবস্থান করেন এবং পরে সব যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। ন্যায়বিচারের আশায় তরুণী সুইটি আক্তার লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামে ইব্রাহীমের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন।

এ সময় ইব্রাহীমের ভাই রুহুল আমিন ভুক্তভোগীকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তার গলায় থাকা ১২ আনা তিন রতি ওজনের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং চিকিৎসা প্রতিবেদনে ধর্ষণের সত্যতা মিলেছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী–২০২৫) এর ৯(খ) ধারাসহ প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।