
লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। তবে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৬ নম্বর বুল্লা ইউনিয়নের পূর্ব বুল্লা গঙ্গানগর কমিউনিটি ক্লিনিকে সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, রোগীদের ওষুধ না দিয়ে মেয়াদ পার করে বাইরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) গঙ্গানগর কমিউনিটি ক্লিনিকের জানালার পাশে বিপুল পরিমাণ ‘জিংক ডিসপারসিবল ২০ এমজি’ নামের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাওয়ার পরও সরকারি ওষুধ এভাবে নষ্ট হতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অসুস্থ হলে সরকারি ওষুধের আশায় কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলেও দায়িত্বরতরা প্রায়ই জানান, ওষুধ নেই। অথচ পরে দেখা যায়, সেই ওষুধ রোগীদের না দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, সপ্তাহে মাত্র এক থেকে দুই দিন ক্লিনিক খোলা পাওয়া যায়। অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্তদের অসহযোগিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণেরও শিকার হতে হয় রোগীদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে কর্মরত বিউটি সন্ন্যাসী দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে পদটি কার্যত শূন্য থাকায় নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যের ওষুধ বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য সহকারী হাফিজুর রহমান বলেন, জানালার বাইরে ওষুধ কীভাবে গেল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. কাজী সামছুল আরেফিন বলেন, সিএইচসিপি অনুপস্থিত থাকায় সপ্তাহে দুই দিন স্বাস্থ্য সহকারী বিকল্পভাবে সেবা দিয়ে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট দিন না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার কথা। কেন তা করা হয়নি এবং কেন রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে ওষুধ নষ্ট করা হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং গঙ্গানগর কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























