ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আশুগঞ্জে প্রাইভেটকারে ৫২ কেজি গাঁজা, গ্রেফতার ১ Logo হাইমচরে শিক্ষার্থীদের ওপর বাঁশ দিয়ে হামলার অভিযোগ, হাসপাতালে ২ Logo বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি Logo মাধবপুরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে Logo লাখাইয়ে ৯ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo সুরমা চা বাগান যুব সংঘের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo বানিয়াচংয়ে ইভটিজিং ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক Logo লাখাইয়ে ৮১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মাধবপুর ইউএনওর সরকারি গাড়ি Logo আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই ও মূল্যবান মালামাল পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে সরকারি পুরোনো পাঠ্যবই, বৈদ্যুতিক পাখাসহ বিভিন্ন মালামাল একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হচ্ছিল। পিকআপটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা মালামালসহ গাড়িটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পরদিন ৮ মে লাখাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির নম্বর ০৯।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মালামাল পাচারের রাতে পিকআপে মালামাল তোলার সময় সহকারী শিক্ষক নজির হোসেন ও নাইটগার্ড মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপর শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন সুপার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এর আগেও ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

মামলার তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা দুদক কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মামলার মূল নথি প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাময়িক অনুপস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে পরিচালনা করা হবে।

এদিকে সরকারি সম্পদ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুগঞ্জে প্রাইভেটকারে ৫২ কেজি গাঁজা, গ্রেফতার ১

error:

লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

আপডেট সময় ১০:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই ও মূল্যবান মালামাল পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে সরকারি পুরোনো পাঠ্যবই, বৈদ্যুতিক পাখাসহ বিভিন্ন মালামাল একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হচ্ছিল। পিকআপটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা মালামালসহ গাড়িটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পরদিন ৮ মে লাখাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির নম্বর ০৯।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মালামাল পাচারের রাতে পিকআপে মালামাল তোলার সময় সহকারী শিক্ষক নজির হোসেন ও নাইটগার্ড মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপর শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন সুপার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এর আগেও ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

মামলার তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা দুদক কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মামলার মূল নথি প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাময়িক অনুপস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে পরিচালনা করা হবে।

এদিকে সরকারি সম্পদ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।