ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই ও মূল্যবান মালামাল পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে সরকারি পুরোনো পাঠ্যবই, বৈদ্যুতিক পাখাসহ বিভিন্ন মালামাল একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হচ্ছিল। পিকআপটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা মালামালসহ গাড়িটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পরদিন ৮ মে লাখাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির নম্বর ০৯।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মালামাল পাচারের রাতে পিকআপে মালামাল তোলার সময় সহকারী শিক্ষক নজির হোসেন ও নাইটগার্ড মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপর শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন সুপার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এর আগেও ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

মামলার তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা দুদক কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মামলার মূল নথি প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাময়িক অনুপস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে পরিচালনা করা হবে।

এদিকে সরকারি সম্পদ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

আপডেট সময় ১০:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই ও মূল্যবান মালামাল পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে সরকারি পুরোনো পাঠ্যবই, বৈদ্যুতিক পাখাসহ বিভিন্ন মালামাল একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হচ্ছিল। পিকআপটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা মালামালসহ গাড়িটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পরদিন ৮ মে লাখাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির নম্বর ০৯।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মালামাল পাচারের রাতে পিকআপে মালামাল তোলার সময় সহকারী শিক্ষক নজির হোসেন ও নাইটগার্ড মিজানুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপর শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন সুপার রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এর আগেও ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

মামলার তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা দুদক কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মামলার মূল নথি প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাময়িক অনুপস্থিতির কারণে প্রক্রিয়াটিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানায়, প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে পরিচালনা করা হবে।

এদিকে সরকারি সম্পদ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা।