
বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর দ্বিতীয় দফায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর জেলার প্রবেশমুখ বাহুবল উপজেলায় পৌঁছালে বুধবার বিকেলে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
এর আগে একই দিন বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার চা-কন্যা এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। পরে সেই বাধা অতিক্রম করে নেতারা হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন। তবে বাহুবলে পৌঁছালে আবারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন তারা।
বুধবার বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। দলটির দাবি, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালান। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন এবং কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, তাদের ওপর ‘ন্যক্কারজনক হামলা’ চালানো হয়েছে। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ শান্তিপ্রিয় জেলা এবং তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না। তবে এনসিপি নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























