ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি Logo নাসীর-সারজিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ আসছেন নাহিদ-হাসনাত-আখতার

চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার

মো. আইয়ুব খান,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে চা বাগানের দরিদ্র আদিবাসী শ্রমিক পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করা কয়েকটি পরিবার নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন চা বাগানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার পাকা টিনশেড ঘরে বসবাস শুরু করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি পড়া এবং ঝড়-ঝঞ্ঝার দুর্ভোগ থেকে তারা অনেকটাই মুক্তি পেয়েছে।

সুরমা চা বাগানের আদিবাসী নেতা অনন্ত সাঁওতাল বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল এবং তাঁর ছেলে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, চা বাগানে নগদ আর্থিক সহায়তা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, বাইসাইকেল বিতরণ, ছাগল প্রদান, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখন শ্রমিকদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা অঞ্জু মুন্ডা বলেন, জীবনে কোনোদিন ভাবেননি পাকা ঘরে থাকতে পারবেন। সংসদ সদস্য তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।

সুরমা চা বাগানের উপকারভোগী ধনেশ্বরী সাঁওতাল ও রামনী সাঁওতাল জানান, এতদিন তারা বাঁশ ও ছনের তৈরি কুঁড়েঘরে বসবাস করতেন। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ত, আর ঝড় এলেই আতঙ্কে থাকতে হতো। নতুন ঘর পাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই দূর হয়েছে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও অসচ্ছল চা শ্রমিক পরিবার এ ধরনের সহায়তা পাবে।

সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, হবিগঞ্জ জেলার ২৩টি চা বাগানের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য কাজ করা হচ্ছে। চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছল জীবন নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, চা বাগানের শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও দরিদ্র পরিবারের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা

error:

চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার

আপডেট সময় ০৭:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মো. আইয়ুব খান,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে চা বাগানের দরিদ্র আদিবাসী শ্রমিক পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করা কয়েকটি পরিবার নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন চা বাগানে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার পাকা টিনশেড ঘরে বসবাস শুরু করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি পড়া এবং ঝড়-ঝঞ্ঝার দুর্ভোগ থেকে তারা অনেকটাই মুক্তি পেয়েছে।

সুরমা চা বাগানের আদিবাসী নেতা অনন্ত সাঁওতাল বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল এবং তাঁর ছেলে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, চা বাগানে নগদ আর্থিক সহায়তা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, বাইসাইকেল বিতরণ, ছাগল প্রদান, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখন শ্রমিকদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।

তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা অঞ্জু মুন্ডা বলেন, জীবনে কোনোদিন ভাবেননি পাকা ঘরে থাকতে পারবেন। সংসদ সদস্য তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।

সুরমা চা বাগানের উপকারভোগী ধনেশ্বরী সাঁওতাল ও রামনী সাঁওতাল জানান, এতদিন তারা বাঁশ ও ছনের তৈরি কুঁড়েঘরে বসবাস করতেন। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ত, আর ঝড় এলেই আতঙ্কে থাকতে হতো। নতুন ঘর পাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই দূর হয়েছে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও অসচ্ছল চা শ্রমিক পরিবার এ ধরনের সহায়তা পাবে।

সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, হবিগঞ্জ জেলার ২৩টি চা বাগানের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য কাজ করা হচ্ছে। চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছল জীবন নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, চা বাগানের শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও দরিদ্র পরিবারের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।