ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সারাদেশে র‍্যাবের কড়া নিরাপত্তা, জোরদার গোয়েন্দা নজরদারি Logo লাখাইয়ে বুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন Logo হাইমচরের নবাগত ইউএনও ও ওসির সঙ্গে জামায়াত নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে সীমান্তে আটক সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতা মিসবাহ সিরাজ Logo ক্যান্সার চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ, পাঁচ মাস পর পা কাটার পরামর্শ Logo চুনারুঘাটে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া সামগ্রী ও দুস্থ নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ Logo লাখাইয়ে মোটরসাইকেল-টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৪ Logo হাইমচরে ওসির উপস্থিতিতে সরকারি মৎস্য ঘেরের মাছ বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo কালের সাক্ষী লাখাইয়ের মোড়াকরি রাস বিহারী সাহার জমিদার বাড়ি, সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের পথে ঐতিহ্য

হাইমচরে ওসির উপস্থিতিতে সরকারি মৎস্য ঘেরের মাছ বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের হাইমচরে আদালতের নির্দেশে সরকারি একটি মৎস্য ঘেরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে মাছ আহরণ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই ঘের থেকে মাছ তুলে বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘেরে পোনা মাছের পরিমাণ যাচাই করতে জাল ফেলা হয়েছিল এবং পাওয়া মাছ কমিটির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
ঘটনাটি হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝের চরে অবস্থিত একটি সরকারি মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘেরটির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ালে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাইমচর থানার তৎকালীন ওসিকে মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানিতে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের উপস্থিতিতে জেলেদের দিয়ে ঘেরে জাল ফেলা হয়। এ সময় আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ মণ মাছ আহরণ করা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, আহরণ করা মাছের বাজারমূল্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা হতে পারে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি সম্পত্তির মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নিলাম আয়োজন এবং বিক্রিলব্ধ অর্থ যথাযথ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় কোনো নিলামের বিজ্ঞপ্তি, দাপ্তরিক অনুমোদন কিংবা বিক্রির অর্থ সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার তথ্য তাঁরা জানতে পারেননি বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘেরে কী পরিমাণ পোনা মাছ রয়েছে তা পরীক্ষা করতেই জাল ফেলা হয়েছিল। এতে সামান্য কিছু মাছ পাওয়া যায়। পরে কমিটির মাধ্যমে ওই মাছ বিক্রি করে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, বিক্রির অর্থ এখনো সরকারি কোনো হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি। তবে কী কারণে অর্থ জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে এবং কোন কমিটির সিদ্ধান্তে মাছ বিক্রি করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “মাছ বিক্রির বিষয়ে কোনো নিলামের অফিশিয়াল চিঠি বা দাপ্তরিক তথ্য আমার কার্যালয়ে আসেনি। মাছ বিক্রি হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোন কোষাগারে জমা হয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘের থেকে আহরণ করা মাছের প্রকৃত পরিমাণ ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, বিক্রিলব্ধ অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সারাদেশে র‍্যাবের কড়া নিরাপত্তা, জোরদার গোয়েন্দা নজরদারি

error:

হাইমচরে ওসির উপস্থিতিতে সরকারি মৎস্য ঘেরের মাছ বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় ০২:০১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের হাইমচরে আদালতের নির্দেশে সরকারি একটি মৎস্য ঘেরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে মাছ আহরণ ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই ঘের থেকে মাছ তুলে বিক্রি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘেরে পোনা মাছের পরিমাণ যাচাই করতে জাল ফেলা হয়েছিল এবং পাওয়া মাছ কমিটির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
ঘটনাটি হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝের চরে অবস্থিত একটি সরকারি মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘেরটির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ালে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাইমচর থানার তৎকালীন ওসিকে মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানিতে রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের উপস্থিতিতে জেলেদের দিয়ে ঘেরে জাল ফেলা হয়। এ সময় আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ মণ মাছ আহরণ করা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, আহরণ করা মাছের বাজারমূল্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা হতে পারে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি সম্পত্তির মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নিলাম আয়োজন এবং বিক্রিলব্ধ অর্থ যথাযথ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় কোনো নিলামের বিজ্ঞপ্তি, দাপ্তরিক অনুমোদন কিংবা বিক্রির অর্থ সরকারি হিসাবে জমা দেওয়ার তথ্য তাঁরা জানতে পারেননি বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘেরে কী পরিমাণ পোনা মাছ রয়েছে তা পরীক্ষা করতেই জাল ফেলা হয়েছিল। এতে সামান্য কিছু মাছ পাওয়া যায়। পরে কমিটির মাধ্যমে ওই মাছ বিক্রি করে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, বিক্রির অর্থ এখনো সরকারি কোনো হিসাবে জমা দেওয়া হয়নি। তবে কী কারণে অর্থ জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে এবং কোন কমিটির সিদ্ধান্তে মাছ বিক্রি করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “মাছ বিক্রির বিষয়ে কোনো নিলামের অফিশিয়াল চিঠি বা দাপ্তরিক তথ্য আমার কার্যালয়ে আসেনি। মাছ বিক্রি হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোন কোষাগারে জমা হয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘের থেকে আহরণ করা মাছের প্রকৃত পরিমাণ ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, বিক্রিলব্ধ অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।