ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কারাগারে ‘আমি বন্দি কারাগারে’ গানের গায়ক মুজিব পরদেশী Logo লাখাইয়ে পৈতৃক ভিটার বিরোধে প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ Logo লাখাইয়ের পুলিশের বিশেষ ফোর্স মোবিলাইজেশন Logo মাধবপুরে সোনাই নদীতে ময়লার স্তুপ, দূষণে হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য Logo পরকীয়ার অভিযোগে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া Logo হবিগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬২ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ Logo কালাউক বাজারে নৈশপ্রহরীদের মধ্যে পোশাক ও আইডি কার্ড বিতরণ Logo লাখাইয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নাটকীয়তা Logo মাধবপুরের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু: দ্রুত সংস্কার না হলে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা Logo সুরমা চা বাগানে ৫০ বছরের পুরোনো সেতুতে চরম ভোগান্তি, দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি

মাধবপুরে সোনাই নদীতে ময়লার স্তুপ, দূষণে হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

শেখ ইমন আহমেদ,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে নদীটি ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে। নদীর তীর ও পানিতে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং বাজারের আবর্জনার স্তূপ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর আশপাশের কিছু বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলছেন। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পানির গুণগত মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে। দূষণের কারণে নদীর পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, ফলে তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সোনাই নদী ছিল এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আধার। কিন্তু বর্তমানে দূষণের কারণে নদীতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমে গেছে। একই সঙ্গে নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষক ও সাধারণ মানুষও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের মতে, সোনাই নদী রক্ষায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে নদীটি আরও ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে সোনাই নদীকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ নদী তার পরিবেশগত গুরুত্ব ও স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগারে ‘আমি বন্দি কারাগারে’ গানের গায়ক মুজিব পরদেশী

error:

মাধবপুরে সোনাই নদীতে ময়লার স্তুপ, দূষণে হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

আপডেট সময় ১০:০০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

শেখ ইমন আহমেদ,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সোনাই নদীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে নদীটি ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে। নদীর তীর ও পানিতে জমে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং বাজারের আবর্জনার স্তূপ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর আশপাশের কিছু বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলছেন। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পানির গুণগত মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে। দূষণের কারণে নদীর পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, ফলে তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সোনাই নদী ছিল এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আধার। কিন্তু বর্তমানে দূষণের কারণে নদীতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর সংখ্যা কমে গেছে। একই সঙ্গে নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষক ও সাধারণ মানুষও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের মতে, সোনাই নদী রক্ষায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে নদীটি আরও ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে সোনাই নদীকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ নদী তার পরিবেশগত গুরুত্ব ও স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।