ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে সম্পাদকদের বৃহৎ মতবিনিময়, সংবাদপত্র শিল্পের উন্নয়ন ও আইন সংস্কারের দাবি Logo পদত্যাগ করলেন জহির উদ্দিন স্বপন Logo ওমরাহ করলেন আসিফ মাহমুদ Logo আজ থেকে শুরু কলেরা টিকার ক্যাম্পেইন Logo সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হাতে তথ্য মন্ত্রণালয় Logo হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের নতুন অধ্যক্ষ বেদারুল আলম Logo স্ত্রীহারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলীর মরদেহ উদ্ধার, প্রায় ৩০ ঘণ্টা একাকী পড়ে ছিলেন Logo মতলব দক্ষিণে ইয়াবাসহ ৪ যুবক আটক, এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাসে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিদ্যুতের খুঁটিতে শর্ট সার্কিট, অল্পের জন্য রক্ষা শতাধিক মানুষ

স্ত্রীহারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলীর মরদেহ উদ্ধার, প্রায় ৩০ ঘণ্টা একাকী পড়ে ছিলেন

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি স্ত্রী মারা গেছেন দুই বছর আগে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছোট ছেলে বোনের বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। ফলে নিজ ভিটায় একাকী জীবনযাপন করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলী মাস্টার (৬০)। অবশেষে মৃত্যুর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির বাইরে থেকে উদ্ধার হলো মাছি ও পোকামাকড়ে ঘেরা তাঁর মরদেহ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম বদরপুর গ্রামের আনিস ভূঁইয়া বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ আলী মাস্টার দীর্ঘদিন ধরে একাকী নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ছোট ভাইদের সঙ্গে স্থানীয় হারুনের দোকানে বসে চা পান করেন। পরে বাড়িতে ফিরে যান। এরপর থেকে আর কেউ তাঁকে দেখতে পাননি।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে বাড়ির দুই শিশু ঘরের বাইরে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তাঁর মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পোকামাকড় ও মাছি ঘিরে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গোসল শেষে ঘরে ফেরার আগেই তিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন।

খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ ও সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমজাদ আলী চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহতের ছোট ভাই খোকন ভূঁইয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আমরা একসঙ্গে দোকানে বসে চা খেয়েছি। এরপর ভাই বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই থাকতেন। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে বাড়ির শিশুরা রক্তমাখা অবস্থায় ভাইয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সবাইকে খবর দেয়।

নিহতের মেজো মেয়ে রেহানা খাতুন বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। তাঁর ধারণা, ঘরে ঢোকার আগেই স্ট্রোক করে বাবার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই আমার কাছে থেকে মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ভাইকে দিয়ে প্রতিদিন বাবার জন্য খাবার পাঠাতাম। বৃহস্পতিবার খাবার পাঠাতে পারিনি। বাবাকে ফোনেও পাচ্ছিলাম না। তাই শুক্রবার সকালে এসে দেখি বাবার নিথর দেহ পড়ে আছে। বাবার কোনো শত্রু ছিল না। আমরা মনে করি স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় এবং তাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে সম্পাদকদের বৃহৎ মতবিনিময়, সংবাদপত্র শিল্পের উন্নয়ন ও আইন সংস্কারের দাবি

error:

স্ত্রীহারা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলীর মরদেহ উদ্ধার, প্রায় ৩০ ঘণ্টা একাকী পড়ে ছিলেন

আপডেট সময় ০৩:৩২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি স্ত্রী মারা গেছেন দুই বছর আগে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছোট ছেলে বোনের বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। ফলে নিজ ভিটায় একাকী জীবনযাপন করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলী মাস্টার (৬০)। অবশেষে মৃত্যুর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির বাইরে থেকে উদ্ধার হলো মাছি ও পোকামাকড়ে ঘেরা তাঁর মরদেহ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম বদরপুর গ্রামের আনিস ভূঁইয়া বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ আলী মাস্টার দীর্ঘদিন ধরে একাকী নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ছোট ভাইদের সঙ্গে স্থানীয় হারুনের দোকানে বসে চা পান করেন। পরে বাড়িতে ফিরে যান। এরপর থেকে আর কেউ তাঁকে দেখতে পাননি।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে বাড়ির দুই শিশু ঘরের বাইরে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তাঁর মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পোকামাকড় ও মাছি ঘিরে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গোসল শেষে ঘরে ফেরার আগেই তিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন।

খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ ও সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমজাদ আলী চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহতের ছোট ভাই খোকন ভূঁইয়া বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আমরা একসঙ্গে দোকানে বসে চা খেয়েছি। এরপর ভাই বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই থাকতেন। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে বাড়ির শিশুরা রক্তমাখা অবস্থায় ভাইয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সবাইকে খবর দেয়।

নিহতের মেজো মেয়ে রেহানা খাতুন বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। তাঁর ধারণা, ঘরে ঢোকার আগেই স্ট্রোক করে বাবার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই আমার কাছে থেকে মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ভাইকে দিয়ে প্রতিদিন বাবার জন্য খাবার পাঠাতাম। বৃহস্পতিবার খাবার পাঠাতে পারিনি। বাবাকে ফোনেও পাচ্ছিলাম না। তাই শুক্রবার সকালে এসে দেখি বাবার নিথর দেহ পড়ে আছে। বাবার কোনো শত্রু ছিল না। আমরা মনে করি স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় এবং তাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।