ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাই উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, সভাপতি পারভেজ সম্পাদক মনির Logo মাধবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ Logo মাধবপুরে সিজারের পর পেটে গজ রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন, বায়োপসিতে ক্যানসার-টিবির আলামত মেলেনি Logo আকস্মিক পরিদর্শনে বীর সিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চেয়ারম্যান সোহাগ Logo সাংবাদিক মিহির দেবের মা আর নেই Logo রাজার বাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিনামূল্যে ৩০৩ রোগীর চোখের অপারেশন Logo মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত নয়: ইসি আনোয়ারুল Logo চিকিৎসক ছাড়াই চলছে নোয়াপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

ঘুষ, দুর্নীতি, অসদাচরণ ও নারী হয়রানির অভিযোগ পেইজের এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

বেসরকারি পল্লী উন্নয়ন সংস্থা পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের হবিগঞ্জ জেলা এরিয়া ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, অসদাচরণ, কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নারী সহকর্মীদের হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক শিক্ষানবিশ মাঠকর্মীর অভিযোগ, চাকরির ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর স্থায়ী নিয়োগের জন্য এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। যারা অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং নানা অজুহাতে চাকরি স্থায়ীকরণ বিলম্বিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেকের চাকরি ছয় মাসের পরিবর্তে ১০ মাস পার হলেও স্থায়ী করা হয়নি।

নারী মাঠকর্মীদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলার পাশাপাশি রাতের বেলায় ভিডিও কল দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

মাধবপুর শাখার সাবেক মাঠকর্মী ইয়াসমিন আক্তার জানান, প্রায় দেড় বছর চাকরি করার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তার দাবি, শিক্ষানবিশ সময় শেষ হওয়ার পর চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য জাহাঙ্গীর তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। চাকরি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি সেই টাকা দিতে বাধ্য হন।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, শুধু জাহাঙ্গীরই নন, মাধবপুর শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাসানও এই ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। তাদের আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে অনেক মাঠকর্মী চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

বাহুবল শাখার সাবেক ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ রোমন বলেন, চাকরি স্থায়ীকরণের সময় তাকেও ১০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এক বছর চাকরি করার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন।

মাধবপুর শাখার সাবেক মাঠকর্মী রেজুয়ানা আক্তার অভিযোগ করেন, এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর ও শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাসানের অশোভন আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের কারণে মাত্র আড়াই মাসের মাথায় চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

সদ্য চাকরি ছেড়ে দেওয়া কাজী তোফায়েল আহমেদ বলেন, অনেকেই তাদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে চাকরি ছেড়েছেন। যারা এখনো চাকরিতে আছেন, তাদের অনেকেই বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন।

হবিগঞ্জের রিচি গ্রামের ঋণগ্রহীতা সদস্য জহুর আলী অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারী প্রার্থীদের কাছ থেকেও ঘুষ দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার দুই তরুণী চাকরির জন্য আবেদন করলে জাহাঙ্গীর তার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করেন।

সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাঙ্গীর নিজেকে প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. শাহজাহানের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তার দাবি, জাহাঙ্গীরকে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরানো না হলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এরিয়া ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাঠকর্মীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি আরও বলেন, ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় একটি কঠিন কাজ। তাই অনেক সময় কর্মীদের সঙ্গে কঠোরভাবে কথা বলতে হয়। পাশাপাশি শতভাগ কিস্তি আদায় না হওয়ায় হবিগঞ্জ শাখার একজন ব্যবস্থাপককে পদাবনতি দিয়ে হিসাব বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই উপজেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, সভাপতি পারভেজ সম্পাদক মনির

error:

ঘুষ, দুর্নীতি, অসদাচরণ ও নারী হয়রানির অভিযোগ পেইজের এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৭:৪৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বেসরকারি পল্লী উন্নয়ন সংস্থা পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের হবিগঞ্জ জেলা এরিয়া ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, অসদাচরণ, কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নারী সহকর্মীদের হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক শিক্ষানবিশ মাঠকর্মীর অভিযোগ, চাকরির ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর স্থায়ী নিয়োগের জন্য এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। যারা অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং নানা অজুহাতে চাকরি স্থায়ীকরণ বিলম্বিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেকের চাকরি ছয় মাসের পরিবর্তে ১০ মাস পার হলেও স্থায়ী করা হয়নি।

নারী মাঠকর্মীদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলার পাশাপাশি রাতের বেলায় ভিডিও কল দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

মাধবপুর শাখার সাবেক মাঠকর্মী ইয়াসমিন আক্তার জানান, প্রায় দেড় বছর চাকরি করার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তার দাবি, শিক্ষানবিশ সময় শেষ হওয়ার পর চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য জাহাঙ্গীর তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। চাকরি টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি সেই টাকা দিতে বাধ্য হন।

ইয়াসমিনের অভিযোগ, শুধু জাহাঙ্গীরই নন, মাধবপুর শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাসানও এই ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। তাদের আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে অনেক মাঠকর্মী চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

বাহুবল শাখার সাবেক ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ রোমন বলেন, চাকরি স্থায়ীকরণের সময় তাকেও ১০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। এক বছর চাকরি করার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন।

মাধবপুর শাখার সাবেক মাঠকর্মী রেজুয়ানা আক্তার অভিযোগ করেন, এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর ও শাখা ব্যবস্থাপক আবুল হাসানের অশোভন আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের কারণে মাত্র আড়াই মাসের মাথায় চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

সদ্য চাকরি ছেড়ে দেওয়া কাজী তোফায়েল আহমেদ বলেন, অনেকেই তাদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে চাকরি ছেড়েছেন। যারা এখনো চাকরিতে আছেন, তাদের অনেকেই বিভিন্নভাবে পরিস্থিতি মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন।

হবিগঞ্জের রিচি গ্রামের ঋণগ্রহীতা সদস্য জহুর আলী অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীরের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারী প্রার্থীদের কাছ থেকেও ঘুষ দাবি করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার দুই তরুণী চাকরির জন্য আবেদন করলে জাহাঙ্গীর তার মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করেন।

সংস্থাটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাহাঙ্গীর নিজেকে প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. শাহজাহানের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তার দাবি, জাহাঙ্গীরকে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরানো না হলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এরিয়া ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাঠকর্মীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি আরও বলেন, ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় একটি কঠিন কাজ। তাই অনেক সময় কর্মীদের সঙ্গে কঠোরভাবে কথা বলতে হয়। পাশাপাশি শতভাগ কিস্তি আদায় না হওয়ায় হবিগঞ্জ শাখার একজন ব্যবস্থাপককে পদাবনতি দিয়ে হিসাব বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।