ঢাকা ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী Logo হবিগঞ্জে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে জয়-পরাজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে উন্নয়নের আহ্বান মির্জা ফয়সল আমিনের Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট

চিকিৎসক ছাড়াই চলছে নোয়াপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চলছে চিকিৎসক ছাড়াই। এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকার পাশাপাশি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদেও দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে কেউ কর্মরত নেই। ফলে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ফার্মাসিস্ট নাসরিন আক্তার ও মিডওয়াইফ আয়েশা আক্তার কর্মরত রয়েছেন।

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফ আয়েশা আক্তার জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক মামুনের উদ্যোগে একজন এমবিবিএস চিকিৎসককে এখানে পদায়ন করা হয়েছিল। ওই চিকিৎসক কিছুদিন কর্মস্থলে আসার পর আর নিয়মিত আসেননি বলে জানান তিনি।

আয়েশা আক্তার আরও জানান, গত ৬-৭ বছরে স্যাকমো পদে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। এর আগে সর্বশেষ এই পদে কেউ কর্মরত ছিলেন কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কর্মরত ফার্মাসিস্ট নাসরিন আক্তার রোগীদের কাছ থেকে অসুস্থতার বিবরণ শুনে সীমিত পরিসরে ওষুধ দিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে চিকিৎসক না থাকায় জটিল ও গুরুতর রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন শতাধিক রোগী এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ ভরসাস্থল। চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, ‘গরিব রোগীদের কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যসেবা দিতে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক পদায়ন করা খুব জরুরি। এখানে প্রতিদিন অনেক রোগী আসেন। চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা দুর্ভোগে পড়ছেন।’

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, ‘লোকবল সংকটের কারণে আপাতত কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি আমাদের কনসার্নে আছে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের মাধ্যমে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা কার্যকর করা হবে এবং দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ভোগান্তি কমবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী

error:

চিকিৎসক ছাড়াই চলছে নোয়াপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

আপডেট সময় ০১:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চলছে চিকিৎসক ছাড়াই। এমবিবিএস চিকিৎসক না থাকার পাশাপাশি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদেও দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে কেউ কর্মরত নেই। ফলে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ফার্মাসিস্ট নাসরিন আক্তার ও মিডওয়াইফ আয়েশা আক্তার কর্মরত রয়েছেন।

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত মিডওয়াইফ আয়েশা আক্তার জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশতিয়াক মামুনের উদ্যোগে একজন এমবিবিএস চিকিৎসককে এখানে পদায়ন করা হয়েছিল। ওই চিকিৎসক কিছুদিন কর্মস্থলে আসার পর আর নিয়মিত আসেননি বলে জানান তিনি।

আয়েশা আক্তার আরও জানান, গত ৬-৭ বছরে স্যাকমো পদে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। এর আগে সর্বশেষ এই পদে কেউ কর্মরত ছিলেন কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কর্মরত ফার্মাসিস্ট নাসরিন আক্তার রোগীদের কাছ থেকে অসুস্থতার বিবরণ শুনে সীমিত পরিসরে ওষুধ দিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে চিকিৎসক না থাকায় জটিল ও গুরুতর রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন শতাধিক রোগী এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ ভরসাস্থল। চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, ‘গরিব রোগীদের কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যসেবা দিতে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক পদায়ন করা খুব জরুরি। এখানে প্রতিদিন অনেক রোগী আসেন। চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা দুর্ভোগে পড়ছেন।’

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, ‘লোকবল সংকটের কারণে আপাতত কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি আমাদের কনসার্নে আছে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের মাধ্যমে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা কার্যকর করা হবে এবং দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ভোগান্তি কমবে।