ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা, সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ জেলা শহরের নিকটবর্তী অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় চরমভাবে পিছিয়ে রয়েছে লাখাই উপজেলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও পরিবেশগত সংকটসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন উপজেলার লাখো মানুষ। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক বছরের অধিকাংশ সময় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাটি অঞ্চলের গ্রামগুলো বর্ষা মৌসুমে মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বুল্লা ইউনিয়নে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এছাড়া লাখাই ইউনিয়নের প্রধান সড়ক বছরের প্রায় ছয় মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এলাকাবাসী সড়কটি সংস্কার করে আডুবো সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মাদনা-লোকড়া সড়কের অবস্থাও বর্তমানে বেহাল।

শিক্ষা খাতেও পিছিয়ে রয়েছে উপজেলা। পুরো লাখাই উপজেলায় নেই কোনো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নারী শিক্ষার জন্যও নেই পৃথক মহিলা কলেজ। অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, তদারকির অভাব ও শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের ব্যয়বহুল কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাচ্ছেন।

পরিবেশগত দিক থেকেও ভয়াবহ সংকটে রয়েছে লাখাই। উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া সুতাং নদী শিল্পকারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে। নদীর পানি কৃষিকাজ ও গৃহপালিত পশুর জন্যও অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি কাইঞ্জা বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ ও দাঙ্গার ঘটনা ঘটছে। সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে ঈদকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রয়েছে চরম সংকট। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সাধারণ চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের হবিগঞ্জ, সিলেট কিংবা ঢাকায় পাঠাতে হয়, যা দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।

এছাড়া উপজেলার শেষ প্রান্তে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সরকারি খাদ্য গুদামের কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। বড় যানবাহন সরাসরি গুদামে যেতে না পারায় কৃষকদের ধান একাধিকবার পরিবহন করতে হয়।

উপজেলা পরিষদ চত্বরেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সীমানা প্রাচীর, আধুনিক অবকাঠামো ও মানসম্মত সুযোগ-সুবিধার অভাবে সরকারি দপ্তরগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সরকারি অফিসে চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, লাখাই উপজেলার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোতে জনবল সংকট দূর করে লাখাইকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

error:

সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা, সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর

আপডেট সময় ১২:১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ জেলা শহরের নিকটবর্তী অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় চরমভাবে পিছিয়ে রয়েছে লাখাই উপজেলা। যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও পরিবেশগত সংকটসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন উপজেলার লাখো মানুষ। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন সড়ক বছরের অধিকাংশ সময় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাটি অঞ্চলের গ্রামগুলো বর্ষা মৌসুমে মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বুল্লা ইউনিয়নে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এছাড়া লাখাই ইউনিয়নের প্রধান সড়ক বছরের প্রায় ছয় মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এলাকাবাসী সড়কটি সংস্কার করে আডুবো সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মাদনা-লোকড়া সড়কের অবস্থাও বর্তমানে বেহাল।

শিক্ষা খাতেও পিছিয়ে রয়েছে উপজেলা। পুরো লাখাই উপজেলায় নেই কোনো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নারী শিক্ষার জন্যও নেই পৃথক মহিলা কলেজ। অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, তদারকির অভাব ও শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের ব্যয়বহুল কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাচ্ছেন।

পরিবেশগত দিক থেকেও ভয়াবহ সংকটে রয়েছে লাখাই। উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া সুতাং নদী শিল্পকারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে। নদীর পানি কৃষিকাজ ও গৃহপালিত পশুর জন্যও অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি কাইঞ্জা বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ ও দাঙ্গার ঘটনা ঘটছে। সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে ঈদকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রয়েছে চরম সংকট। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সাধারণ চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের হবিগঞ্জ, সিলেট কিংবা ঢাকায় পাঠাতে হয়, যা দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।

এছাড়া উপজেলার শেষ প্রান্তে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সরকারি খাদ্য গুদামের কারণে কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। বড় যানবাহন সরাসরি গুদামে যেতে না পারায় কৃষকদের ধান একাধিকবার পরিবহন করতে হয়।

উপজেলা পরিষদ চত্বরেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সীমানা প্রাচীর, আধুনিক অবকাঠামো ও মানসম্মত সুযোগ-সুবিধার অভাবে সরকারি দপ্তরগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সরকারি অফিসে চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, লাখাই উপজেলার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোতে জনবল সংকট দূর করে লাখাইকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।