
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
চোখে দেখেন না এক বিন্দু আলো, কিন্তু হাতের স্পর্শে কাঠের রুক্ষ শরীর হয়ে ওঠে মসৃণ ও নিখুঁত। অন্ধত্ব যাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল জীবন থেকে, সেই রুবেল মিয়া আজ স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্মানের জায়গা—ফার্নিচারের পালিশ কারিগর হিসেবে।
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়া (২৫)। শৈশবে কিছুটা ঝাপসা দেখলেও আট-দশ বছর আগে তিনি পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারান। চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলেও হতাশার কাছে হার মানেননি রুবেল। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—কারও বোঝা হয়ে নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াবেন।
রুবেলের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে ছিল বন্ধুর সহায়তা ও তার বড় ভাইয়ের অকুণ্ঠ সমর্থন। চার-পাঁচ বছর আগে বন্ধুর ফার্নিচার দোকানে যাতায়াত শুরু করেন তিনি। সেখানে হাতে-কলমে ফার্নিচারের কাজ শেখানো হয় তাকে। ধীরে ধীরে আয়ত্ত করেন নকশা ঘষা ও পালিশের সূক্ষ্ম কৌশল।
বর্তমানে রুবেল কালাউক বাজারের ‘মায়ের দোয়া ফার্নিচার’ দোকানে কাজ করছেন। মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে তিনি ফার্নিচারের নকশা পালিশের দায়িত্ব পালন করেন। কাঠের সূক্ষ্ম কারুকাজ কোথায় কতটুকু ঘষা দরকার—চোখ ছাড়াই হাতের স্পর্শে তা নিখুঁতভাবে বুঝে নেন তিনি।
রুবেল বলেন, “আমি কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্যই কাজ শিখেছি। মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করি, এতেই আমার শান্তি।”
মায়ের দোয়া ফার্নিচারের মালিক মনসুর আহমেদ বলেন, রুবেলের কাজে কোনো ত্রুটি নেই। তিনি জানান, “অন্য দশজন স্বাভাবিক মানুষ যে সময়ে কাজ শেষ করে, রুবেলও ঠিক ততটাই দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কাজ করে।”
সহকর্মীরাও রুবেলের কাজে মুগ্ধ। তাদের ভাষ্য, ফার্নিচারের নকশা ঘষা ও পালিশে তার দক্ষতা এতটাই নিখুঁত যে প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই—তিনি চোখে দেখতে পান না।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে কখনো অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে বাধা হতে পারে না, রুবেল মিয়া তার জীবন্ত প্রমাণ। তার সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প এখন লাখাই উপজেলার অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























