
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ফয়সল আহমেদ জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের ভিটাভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুগের পর যুগ এ দেশে বসবাস করলেও চা শ্রমিকরা এখনো তাদের ন্যায্য ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও চা শ্রমিকদের জীবনমান এখনো আশানুরূপ উন্নত হয়নি। তারা বিশুদ্ধ পানির সংকট, মানসম্মত শিক্ষার অভাব, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতায় ভুগছেন। এসব কারণে তারা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারছেন না।
চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে এমপি বলেন, তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় দুটি সরকারি হাসপাতাল থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অ্যাম্বুলেন্স, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের সংকট রয়েছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ ছাড়া তিনি বলেন, মাধবপুর-চুনারুঘাট এলাকায় চা বাগান, পাহাড়, নদী, হাওর-বাঁওড়, রাবার বাগান ও গ্যাসক্ষেত্রসহ বিপুল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি ৫০টিরও বেশি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখতে শিল্প পুলিশ নিয়োগ ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, সংসদে এ বক্তব্য প্রচারের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ জনগণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, “চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিয়ে অতীতে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। সংসদে বিষয়টি উত্থাপন হওয়ায় আমরা আশাবাদী। এটি বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























