ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র দুই গ্রাম, আহত ২২ জন Logo মাধবপুরে ট্রাক্টরের চাপায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo রেমা-কালেঙ্গা বনে ট্রাক্টরসহ গাছ আটক, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে Logo শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা নিয়ে সভা Logo বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ Logo ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসর Logo ভারতে গ্রেপ্তার হাদি হত্যার আসামিদের দ্রুত দেশে আনা হবে: আইজিপি Logo মাধবপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত Logo সৌদিতে আবাসিক ভবনে মিসাইলের আঘাত, বাংলাদেশিসহ নিহত ২ Logo লাখাইয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক ২

মাধবপুর–চুনারুঘাট আসনে সম্প্রীতির রাজনীতিতে এগিয়ে সৈয়দ মো. ফয়সল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে ভোটারদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত প্রার্থী’ ইস্যু। দলীয় প্রতীক, রাজনৈতিক আদর্শ ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীর স্থানীয় পরিচয় ও জনসম্পৃক্ততা ভোটের মাঠে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

এ আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যারা মাধবপুর–চুনারুঘাটের মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে ছিলেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকার সমস্যা বুঝে সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন—তাদের প্রতিই আস্থা বেশি। বিপরীতে, যেসব প্রার্থী হঠাৎ করে বাইরে থেকে এসে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং যাদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, তাদের প্রতি অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অনেক ভোটারের ভাষ্য, বহিরাগত প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নির্বাচনের পর তাকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে বিলম্ব ঘটে এবং ভোগান্তি বাড়ে। সে কারণেই ভোটাররা এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি এলাকায় থাকবেন, সহজে পাওয়া যাবে এবং সব শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হবিগঞ্জ–৪ আসনে এবারের জয়–পরাজয় নির্ভর করছে মূলত চা শ্রমিক, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার এবং সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের ওপর। এই তিনটি ভোটার গোষ্ঠী মিলিয়ে একটি বড় ভোটব্যাংক গড়ে উঠেছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ধর্মঘর ইউনিয়নের শিক্ষক আবিদ হোসেন বলেন,“আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় আসবেন না; বরং সারা বছর আমাদের পাশে থাকবেন। স্থানীয় সমস্যাগুলো বুঝে সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।”
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও চুনারুঘাটের চা শ্রমিক সন্তান নৃপেন পাল বলেন,

“মাধবপুর–চুনারুঘাট এলাকায় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। তারা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকেই ভোট দেবেন।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান আলোচনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল এগিয়ে আছেন। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, তিনি নির্বাচিত হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে মিলেমিশে থাকতে পারবেন। তিনি মানবিক নীতিতে অটল এবং অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে সবসময় দৃঢ় অবস্থান নেন।”

নৃপেন পাল উল্লেখ করেন,
“এ এলাকার হাজার হাজার নারী–পুরুষ রাতদিন শিল্প কারখানা ও চা বাগানে কাজ করে বাড়ি ফেরেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন সাহসী ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধি প্রয়োজন। অনেকেই মনে করছেন, সৈয়দ মো. ফয়সল সেই যোগ্যতা রাখেন

।”চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান বলেন,“সৈয়দ মো. ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে মাধবপুর–চুনারুঘাটের মানুষের সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত। ঈদ, পূজা এবং বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি আরও বলেন,“তিনি কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেননি। চা শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখেছেন। তাই স্থানীয় মানুষ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে আগ্রহী।”
শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন চৌধুরী বলেন,
“বাইরের জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের সঙ্গে এলাকার মানুষের গভীর সম্পর্ক নেই। ফলে স্থানীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় তারা কতটা কার্যকর হবেন—সে বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। সে কারণেই ভোটারদের পছন্দ সৈয়দ মো. ফয়সল।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পৃথক স্থানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র দুই গ্রাম, আহত ২২ জন

error:

মাধবপুর–চুনারুঘাট আসনে সম্প্রীতির রাজনীতিতে এগিয়ে সৈয়দ মো. ফয়সল

আপডেট সময় ০৫:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে ভোটারদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘স্থানীয় বনাম বহিরাগত প্রার্থী’ ইস্যু। দলীয় প্রতীক, রাজনৈতিক আদর্শ ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রার্থীর স্থানীয় পরিচয় ও জনসম্পৃক্ততা ভোটের মাঠে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

এ আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যারা মাধবপুর–চুনারুঘাটের মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে ছিলেন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকার সমস্যা বুঝে সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন—তাদের প্রতিই আস্থা বেশি। বিপরীতে, যেসব প্রার্থী হঠাৎ করে বাইরে থেকে এসে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং যাদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, তাদের প্রতি অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অনেক ভোটারের ভাষ্য, বহিরাগত প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নির্বাচনের পর তাকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে বিলম্ব ঘটে এবং ভোগান্তি বাড়ে। সে কারণেই ভোটাররা এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি এলাকায় থাকবেন, সহজে পাওয়া যাবে এবং সব শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হবিগঞ্জ–৪ আসনে এবারের জয়–পরাজয় নির্ভর করছে মূলত চা শ্রমিক, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার এবং সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের ওপর। এই তিনটি ভোটার গোষ্ঠী মিলিয়ে একটি বড় ভোটব্যাংক গড়ে উঠেছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ধর্মঘর ইউনিয়নের শিক্ষক আবিদ হোসেন বলেন,“আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় আসবেন না; বরং সারা বছর আমাদের পাশে থাকবেন। স্থানীয় সমস্যাগুলো বুঝে সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।”
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও চুনারুঘাটের চা শ্রমিক সন্তান নৃপেন পাল বলেন,

“মাধবপুর–চুনারুঘাট এলাকায় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। তারা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকেই ভোট দেবেন।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান আলোচনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল এগিয়ে আছেন। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, তিনি নির্বাচিত হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে মিলেমিশে থাকতে পারবেন। তিনি মানবিক নীতিতে অটল এবং অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে সবসময় দৃঢ় অবস্থান নেন।”

নৃপেন পাল উল্লেখ করেন,
“এ এলাকার হাজার হাজার নারী–পুরুষ রাতদিন শিল্প কারখানা ও চা বাগানে কাজ করে বাড়ি ফেরেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন সাহসী ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধি প্রয়োজন। অনেকেই মনে করছেন, সৈয়দ মো. ফয়সল সেই যোগ্যতা রাখেন

।”চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান বলেন,“সৈয়দ মো. ফয়সল দীর্ঘদিন ধরে মাধবপুর–চুনারুঘাটের মানুষের সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত। ঈদ, পূজা এবং বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি আরও বলেন,“তিনি কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেননি। চা শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান বজায় রেখেছেন। তাই স্থানীয় মানুষ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে আগ্রহী।”
শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন চৌধুরী বলেন,
“বাইরের জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের সঙ্গে এলাকার মানুষের গভীর সম্পর্ক নেই। ফলে স্থানীয় উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় তারা কতটা কার্যকর হবেন—সে বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। সে কারণেই ভোটারদের পছন্দ সৈয়দ মো. ফয়সল।”