ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

আইজিপির নির্দেশ সত্ত্বেও মাধবপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধীরগতি: সক্রিয় অন্যান্য বাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি মাদক নির্মূলে নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের কঠোর নির্দেশনার পরও হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা এলাকায় এর ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ২রা মার্চ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেশের সকল পুলিশ সুপারদের সাথে মতবিনিময়কালে আইজিপি মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। তবে মাধবপুর থানার মাদক মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুলিশের তুলনায় র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানের সফলতা অনেক বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্তঘেরা এই উপজেলায় মাদকাসক্ত ও কারবারিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকাসক্তদের মাধ্যমে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উপজেলার ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, শাহজাহানপুর, জগদীশপুর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নে মাদক কেনাবেচার হার সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অক্টোবর মাসে মাধবপুর থানায় ১৪টি মাদক মামলার মধ্যে থানা পুলিশ বাদী হয়েছিল ১০টিতে। তবে নভেম্বর মাসে ১৭টি মামলার মধ্যে র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও ডিএনসি ১২টি মামলা করলেও থানা পুলিশ ও এর আওতাধীন ফাঁড়িগুলো করেছিল মাত্র ৫টি মামলা। ডিসেম্বর মাসে হওয়া ৫টি মামলার সবকটিই র‍্যাব ও বিজিবির করা, যেখানে থানা পুলিশের কোনো সাফল্য ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হওয়া ৯টি মামলার মধ্যে মাত্র ৩টি করেছে থানা পুলিশ।

সচেতন মহলের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সাথে কতিপয় পুলিশ সদস্যের সুসম্পর্কের গুঞ্জনে এই নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হতে পারে। কয়েক বছর আগে মাদক বহনকালে এক পুলিশ সদস্য হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনাও এলাকায় আলোচিত। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এমতাবস্থায় মাদকের ভয়াবহতা রোধে স্থানীয় পুলিশের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুধী সমাজ।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

আইজিপির নির্দেশ সত্ত্বেও মাধবপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধীরগতি: সক্রিয় অন্যান্য বাহিনী

আপডেট সময় ০৫:১৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি মাদক নির্মূলে নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের কঠোর নির্দেশনার পরও হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা এলাকায় এর ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ২রা মার্চ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেশের সকল পুলিশ সুপারদের সাথে মতবিনিময়কালে আইজিপি মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। তবে মাধবপুর থানার মাদক মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুলিশের তুলনায় র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানের সফলতা অনেক বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্তঘেরা এই উপজেলায় মাদকাসক্ত ও কারবারিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকাসক্তদের মাধ্যমে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উপজেলার ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, শাহজাহানপুর, জগদীশপুর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নে মাদক কেনাবেচার হার সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অক্টোবর মাসে মাধবপুর থানায় ১৪টি মাদক মামলার মধ্যে থানা পুলিশ বাদী হয়েছিল ১০টিতে। তবে নভেম্বর মাসে ১৭টি মামলার মধ্যে র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও ডিএনসি ১২টি মামলা করলেও থানা পুলিশ ও এর আওতাধীন ফাঁড়িগুলো করেছিল মাত্র ৫টি মামলা। ডিসেম্বর মাসে হওয়া ৫টি মামলার সবকটিই র‍্যাব ও বিজিবির করা, যেখানে থানা পুলিশের কোনো সাফল্য ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হওয়া ৯টি মামলার মধ্যে মাত্র ৩টি করেছে থানা পুলিশ।

সচেতন মহলের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সাথে কতিপয় পুলিশ সদস্যের সুসম্পর্কের গুঞ্জনে এই নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হতে পারে। কয়েক বছর আগে মাদক বহনকালে এক পুলিশ সদস্য হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনাও এলাকায় আলোচিত। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এমতাবস্থায় মাদকের ভয়াবহতা রোধে স্থানীয় পুলিশের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুধী সমাজ।