ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

আইজিপির নির্দেশ সত্ত্বেও মাধবপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধীরগতি: সক্রিয় অন্যান্য বাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি মাদক নির্মূলে নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের কঠোর নির্দেশনার পরও হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা এলাকায় এর ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ২রা মার্চ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেশের সকল পুলিশ সুপারদের সাথে মতবিনিময়কালে আইজিপি মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। তবে মাধবপুর থানার মাদক মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুলিশের তুলনায় র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানের সফলতা অনেক বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্তঘেরা এই উপজেলায় মাদকাসক্ত ও কারবারিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকাসক্তদের মাধ্যমে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উপজেলার ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, শাহজাহানপুর, জগদীশপুর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নে মাদক কেনাবেচার হার সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অক্টোবর মাসে মাধবপুর থানায় ১৪টি মাদক মামলার মধ্যে থানা পুলিশ বাদী হয়েছিল ১০টিতে। তবে নভেম্বর মাসে ১৭টি মামলার মধ্যে র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও ডিএনসি ১২টি মামলা করলেও থানা পুলিশ ও এর আওতাধীন ফাঁড়িগুলো করেছিল মাত্র ৫টি মামলা। ডিসেম্বর মাসে হওয়া ৫টি মামলার সবকটিই র‍্যাব ও বিজিবির করা, যেখানে থানা পুলিশের কোনো সাফল্য ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হওয়া ৯টি মামলার মধ্যে মাত্র ৩টি করেছে থানা পুলিশ।

সচেতন মহলের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সাথে কতিপয় পুলিশ সদস্যের সুসম্পর্কের গুঞ্জনে এই নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হতে পারে। কয়েক বছর আগে মাদক বহনকালে এক পুলিশ সদস্য হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনাও এলাকায় আলোচিত। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এমতাবস্থায় মাদকের ভয়াবহতা রোধে স্থানীয় পুলিশের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুধী সমাজ।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

আইজিপির নির্দেশ সত্ত্বেও মাধবপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধীরগতি: সক্রিয় অন্যান্য বাহিনী

আপডেট সময় ০৫:১৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি মাদক নির্মূলে নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের কঠোর নির্দেশনার পরও হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা এলাকায় এর ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ২রা মার্চ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে দেশের সকল পুলিশ সুপারদের সাথে মতবিনিময়কালে আইজিপি মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। তবে মাধবপুর থানার মাদক মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুলিশের তুলনায় র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানের সফলতা অনেক বেশি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতীয় সীমান্তঘেরা এই উপজেলায় মাদকাসক্ত ও কারবারিদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকাসক্তদের মাধ্যমে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উপজেলার ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, শাহজাহানপুর, জগদীশপুর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নে মাদক কেনাবেচার হার সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অক্টোবর মাসে মাধবপুর থানায় ১৪টি মাদক মামলার মধ্যে থানা পুলিশ বাদী হয়েছিল ১০টিতে। তবে নভেম্বর মাসে ১৭টি মামলার মধ্যে র‍্যাব, ডিবি, বিজিবি ও ডিএনসি ১২টি মামলা করলেও থানা পুলিশ ও এর আওতাধীন ফাঁড়িগুলো করেছিল মাত্র ৫টি মামলা। ডিসেম্বর মাসে হওয়া ৫টি মামলার সবকটিই র‍্যাব ও বিজিবির করা, যেখানে থানা পুলিশের কোনো সাফল্য ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হওয়া ৯টি মামলার মধ্যে মাত্র ৩টি করেছে থানা পুলিশ।

সচেতন মহলের অভিযোগ, চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সাথে কতিপয় পুলিশ সদস্যের সুসম্পর্কের গুঞ্জনে এই নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হতে পারে। কয়েক বছর আগে মাদক বহনকালে এক পুলিশ সদস্য হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনাও এলাকায় আলোচিত। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এমতাবস্থায় মাদকের ভয়াবহতা রোধে স্থানীয় পুলিশের আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুধী সমাজ।