ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্রে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ Logo সিংহাগ্রামে অনাবৃষ্টি ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় ইস্তিসকার নামাজ ও বিশেষ দোয়া Logo দীর্ঘদিন পর চালু হলো হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা Logo মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্র ধরে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ Logo হাইমচরে এইচএসসি-আলিমে পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ মাত্র ৩ Logo দীর্ঘদিন পর চালু হলো হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা Logo লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য, সার্বিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র Logo জামালপুরে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য, টানা দুই বছর ফেল সবাই Logo হাইমচর সরকারি কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ Logo চাকরিচ্যুতি ও বকেয়া বেতন নিয়ে জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে অভিযোগ

লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় বিবেকহীন একদল নরপশুর লালসার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাজুন বেগম (৩৭) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। বর্তমানে তিনি চারটি নিষ্পাপ শিশু সন্তান নিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। অথচ এই শিশুদের পিতৃত্বের দায় স্বীকার করেনি কেউ। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এমন নির্মমতা যেন মানবতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।

জানা যায়, পূর্ব বুল্লা গ্রামের আক্রম আলীর কন্যা তাজুন বেগম কয়েক বছর আগে স্বামী হারানোর পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বামীর সংসারে তার দুই ছেলে সন্তান থাকলেও অসুস্থতার কারণে পিত্রালয়ে ফিরে আসার পর থেকেই তার জীবনের দুর্ভোগ শুরু হয়।

পরবর্তীতে নিরাশ্রয় অবস্থায় বুল্লা বাজারে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় একদল অসাধু ব্যক্তির নির্যাতনের শিকার হন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের শিকার হয়ে তাজুন বেগম চারটি সন্তানের জন্ম দেন, যার মধ্যে রয়েছে এক ছেলে ও তিন মেয়ে।

বর্তমানে এই চারটি শিশু নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মশার কামড়, অপুষ্টি ও অনাহারের সঙ্গে লড়াই করছে শিশুগুলো। বাজারের উচ্ছিষ্ট খাবারই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।

জানা গেছে, ২০২২ সালে এ ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করলেও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থামেনি। ২০২৩ সাল থেকে করাব ইউনিয়নের মনতৈল আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে তাকে রাখা হলেও সেখানেও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ রয়েছে।

তাজুন বেগমের ভাই উজ্জ্বল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় বোনের চিকিৎসা বা শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব নিতে পারছেন না। তিনি সরকারের কাছে বোনের চিকিৎসা ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, যথাযথ চিকিৎসা এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল এই অসহায় পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।

‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্রে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

error:

লাখাইয়ে পাশবিকতার চরম রূপ: মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ৪ সন্তানের জননী, নেই কারো স্বীকৃতি

আপডেট সময় ১২:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় বিবেকহীন একদল নরপশুর লালসার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাজুন বেগম (৩৭) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। বর্তমানে তিনি চারটি নিষ্পাপ শিশু সন্তান নিয়ে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। অথচ এই শিশুদের পিতৃত্বের দায় স্বীকার করেনি কেউ। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এমন নির্মমতা যেন মানবতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।

জানা যায়, পূর্ব বুল্লা গ্রামের আক্রম আলীর কন্যা তাজুন বেগম কয়েক বছর আগে স্বামী হারানোর পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। স্বামীর সংসারে তার দুই ছেলে সন্তান থাকলেও অসুস্থতার কারণে পিত্রালয়ে ফিরে আসার পর থেকেই তার জীবনের দুর্ভোগ শুরু হয়।

পরবর্তীতে নিরাশ্রয় অবস্থায় বুল্লা বাজারে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় একদল অসাধু ব্যক্তির নির্যাতনের শিকার হন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের শিকার হয়ে তাজুন বেগম চারটি সন্তানের জন্ম দেন, যার মধ্যে রয়েছে এক ছেলে ও তিন মেয়ে।

বর্তমানে এই চারটি শিশু নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। খোলা আকাশের নিচে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মশার কামড়, অপুষ্টি ও অনাহারের সঙ্গে লড়াই করছে শিশুগুলো। বাজারের উচ্ছিষ্ট খাবারই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা।

জানা গেছে, ২০২২ সালে এ ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করলেও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থামেনি। ২০২৩ সাল থেকে করাব ইউনিয়নের মনতৈল আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে তাকে রাখা হলেও সেখানেও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ রয়েছে।

তাজুন বেগমের ভাই উজ্জ্বল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় বোনের চিকিৎসা বা শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব নিতে পারছেন না। তিনি সরকারের কাছে বোনের চিকিৎসা ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, যথাযথ চিকিৎসা এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল এই অসহায় পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।