
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ১ নম্বর লাখাই ইউনিয়নের সুতাং নদী খননের মাধ্যমে উত্তোলিত মাটি মিশ্রিত বালু নিলামকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম নির্ধারিত নিলামস্থল থেকে ফিরে আসেন। পরে পূর্বনির্ধারিত স্পটগুলোতে নিলাম সম্পন্ন করা সম্ভব না হলেও উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
পূর্বঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার (২৫ আগস্ট) সুতাং নদী খননের ফলে উত্তোলিত বালু বিধি অনুযায়ী নিলামে বিক্রির জন্য নির্ধারিত সময় ও স্থানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ক্রেতারা।
নিলামের সূচি অনুযায়ী প্রথম স্পট ছিল উপজেলার বাঙ্গালপাড়া এলাকা। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় লোকজন ও জমির মালিকরা নিলামের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
প্রতিবাদকারী জমির মালিক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সুতাং নদী খননের সময় তাদের ব্যক্তিগত জমিতে বালু ফেলা হয়েছিল। তাদের দাবি, এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তোফাজ্জল ও যুবদল নেতা রায়হানকে তারা লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন। নিজেদের অর্থ ব্যয় করে জমিতে বালু রাখার পর এখন সেই বালু নিলামে বিক্রি করা হলে তাদের খরচ করা অর্থ ও ক্ষতিপূরণ কীভাবে সমন্বয় হবে—এ প্রশ্ন তুলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একপর্যায়ে বাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলামকে ঘিরে ধরে নিলামের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরিস্থিতির কারণে পূর্বনির্ধারিত অন্যান্য স্পটেও আর নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাখাই উপজেলা পরিষদে ফিরে যান। সেখানে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করে সুতাং নদী খননের মাধ্যমে উত্তোলিত মাটি মিশ্রিত বালুর নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























