ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে খাবার ফেলে বাইরে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে অবস্থিত মোস্তাক হোটেল ও আবুল হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পর্যটকরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে হোটেলের টিনের চাল ভাঙার কাজ শুরু করেন। অভিযানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই খাবার অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পর্যটক বলেন, “আমরা বসে খাবার খাচ্ছিলাম। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা সময় না দিয়েই এভাবে অভিযান চালানো কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয়, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযান চলাকালে পাশের মাসুম বিল্লাহর হোটেলের সামনেও এক্সকাভেটর প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করে। তবে হোটেলটির মালিককে কিছু না বলেই সেটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাক হোটেলের মালিক অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এক্সকাভেটর নিয়ে সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হারিছ দেববর্মা ও চিত্তরঞ্জন দেববর্মার মালিকানাধীন নিসর্গ হোটেলে অভিযান চালাতে গেলে ত্রিপুরা পল্লীর নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের বাধা দেন। এতে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থেমে যায়।
এর আগে একই অভিযানে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার অনেকের মতে, বনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তবে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা

আপডেট সময় ০৯:০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে খাবার ফেলে বাইরে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে অবস্থিত মোস্তাক হোটেল ও আবুল হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পর্যটকরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে হোটেলের টিনের চাল ভাঙার কাজ শুরু করেন। অভিযানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই খাবার অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পর্যটক বলেন, “আমরা বসে খাবার খাচ্ছিলাম। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা সময় না দিয়েই এভাবে অভিযান চালানো কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয়, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযান চলাকালে পাশের মাসুম বিল্লাহর হোটেলের সামনেও এক্সকাভেটর প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করে। তবে হোটেলটির মালিককে কিছু না বলেই সেটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাক হোটেলের মালিক অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এক্সকাভেটর নিয়ে সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হারিছ দেববর্মা ও চিত্তরঞ্জন দেববর্মার মালিকানাধীন নিসর্গ হোটেলে অভিযান চালাতে গেলে ত্রিপুরা পল্লীর নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের বাধা দেন। এতে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থেমে যায়।
এর আগে একই অভিযানে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার অনেকের মতে, বনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তবে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।