
নাজমুল ইসলাম হৃদয়:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থানার সেবাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের ২৩ দিনের মধ্যেই জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা এবং অপরাধ দমনে সক্রিয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
চলতি বছরের ৩ আগস্ট চুনারুঘাট থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাইফুল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি থানাকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব রাখার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি থানায় সেবাপ্রার্থীদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ জিডি, মামলা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
থানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২৩ দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলাসহ প্রায় ১৫টি মামলায় এজাহারভুক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদক ব্যবসায়ীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন বিরোধের সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখল প্রতিরোধেও পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।”
তিনি বলেন, পুলিশের প্রধান দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমন হলেও জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই থানায় এসে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
থানা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যে এসব উদ্যোগ নেওয়া হলেও চুনারুঘাট থানার কার্যক্রমে এ পরিবর্তন কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে। তবে জনবান্ধব সেবা ও পেশাদার পুলিশিং অব্যাহত থাকলে থানার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বাংলার খবর ডেস্ক : 


























