ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাজপথের রাজনীতি থেকে সংসদে এম এ হান্নান, নাসিরনগরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নজর Logo নাসিরনগরের দোকানে শিশুরা কী খাচ্ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা Logo অটোরিকশা চালক আরজান হত্যা: মোবাইল ফোনের সূত্রে রহস্যের জট খুলেছে পিবিআই Logo নাসিরনগরে জেলের জালের গুদামে আগুন, ১৪ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি Logo মাদক ছেড়ে মাঠে চল—চৌমুহনীতে শুরু মিনি ফুটবল চ্যাম্পিয়নস লীগ Logo মাধবপুরে আগুনে পুড়ে ছাই দুই ভাইয়ের বসতঘর, ক্ষতি ৫০ লাখ টাকা Logo চুনারুঘাটে শরতের বিকেলে ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’, পাহাড়-সমতলের সংস্কৃতির মিলনমেলা Logo হাইমচরে ইজিবাইক চুরির চেষ্টায় আটক ২ Logo লাখাইয়ে প্রথম ‘প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ পেল কালাউক উচ্চ বিদ্যালয়ের ফারদিন Logo সাইবার পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু, নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল হোসেন

নাসিরনগরের দোকানে শিশুরা কী খাচ্ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের জন্য বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের নিম্নমানের, অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও এসব খাদ্যপণ্যের অবাধ বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকান, ভ্যারাইটিজ স্টোর, কনফেকশনারি ও চায়ের দোকানে ফলের জুস, রঙিন ড্রিংক, ছোট বোতলজাত পানীয়, লাচ্ছি, ললি পপ, চিপস, চকলেট, ক্যান্ডি, চাটনি, চুইংগাম, ওয়েফার, আইস পপ ও বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিমসহ নানা রঙের ও আকর্ষণীয় মোড়কের খাদ্যপণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রঙ-বেরঙের মোড়ক ও বিভিন্ন অফারের কারণে এসব পণ্যের প্রতি শিশুরা সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পণ্যের অনেকগুলোর উৎপাদন, উপাদান ও মান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। কোনো কোনো পণ্যের মোড়কে প্রয়োজনীয় তথ্যও অস্পষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের আকৃষ্ট করতে কিছু খাদ্যপণ্যের সঙ্গে প্লাস্টিকের খেলনা বা অন্যান্য সামগ্রীও দেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের কেউ কেউ জানান, শিশুরা এসব খাবার কেনার জন্য বায়না ধরলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে তা কিনে দিতে হয়। আবার গ্রামাঞ্চলের অনেক অভিভাবক এসব খাদ্যপণ্যের মান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতন নন।

চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার নিয়মিত খেলে শিশুদের হজমজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি বা সংরক্ষণ করা খাবার খেলে ডায়রিয়া, বমি ও অন্যান্য পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেজি স্কুল, মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এবং আশপাশের দোকানগুলোতে এসব শিশুখাদ্যের উপস্থিতি বেশি। শিশুদের সহজ নাগালের মধ্যে থাকায় তারা নিজেরাই এসব পণ্য কিনে খাচ্ছে।

এদিকে নিম্নমানের পণ্যের বিক্রি বাড়াতে খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন লাভজনক ও আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হয় বলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। ফলে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি এবং অভিযান না থাকায় নিম্নমানের এসব খাদ্যপণ্যের বিক্রি দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি শিশু ও অভিভাবকদের সচেতন করতে দৃশ্যমান প্রচার-প্রচারণারও প্রয়োজন রয়েছে।

তাদের দাবি, দ্রুত এসব অনিরাপদ ও মানহীন খাদ্যপণ্যের বিক্রি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যের মান পরীক্ষা, অনুমোদন যাচাই এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজপথের রাজনীতি থেকে সংসদে এম এ হান্নান, নাসিরনগরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নজর

error:

নাসিরনগরের দোকানে শিশুরা কী খাচ্ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা

আপডেট সময় ০১:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের জন্য বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের নিম্নমানের, অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও এসব খাদ্যপণ্যের অবাধ বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকান, ভ্যারাইটিজ স্টোর, কনফেকশনারি ও চায়ের দোকানে ফলের জুস, রঙিন ড্রিংক, ছোট বোতলজাত পানীয়, লাচ্ছি, ললি পপ, চিপস, চকলেট, ক্যান্ডি, চাটনি, চুইংগাম, ওয়েফার, আইস পপ ও বিভিন্ন ধরনের আইসক্রিমসহ নানা রঙের ও আকর্ষণীয় মোড়কের খাদ্যপণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রঙ-বেরঙের মোড়ক ও বিভিন্ন অফারের কারণে এসব পণ্যের প্রতি শিশুরা সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পণ্যের অনেকগুলোর উৎপাদন, উপাদান ও মান নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। কোনো কোনো পণ্যের মোড়কে প্রয়োজনীয় তথ্যও অস্পষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুদের আকৃষ্ট করতে কিছু খাদ্যপণ্যের সঙ্গে প্লাস্টিকের খেলনা বা অন্যান্য সামগ্রীও দেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের কেউ কেউ জানান, শিশুরা এসব খাবার কেনার জন্য বায়না ধরলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে তা কিনে দিতে হয়। আবার গ্রামাঞ্চলের অনেক অভিভাবক এসব খাদ্যপণ্যের মান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতন নন।

চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার নিয়মিত খেলে শিশুদের হজমজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপরিষ্কার পরিবেশে তৈরি বা সংরক্ষণ করা খাবার খেলে ডায়রিয়া, বমি ও অন্যান্য পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেজি স্কুল, মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এবং আশপাশের দোকানগুলোতে এসব শিশুখাদ্যের উপস্থিতি বেশি। শিশুদের সহজ নাগালের মধ্যে থাকায় তারা নিজেরাই এসব পণ্য কিনে খাচ্ছে।

এদিকে নিম্নমানের পণ্যের বিক্রি বাড়াতে খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন লাভজনক ও আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হয় বলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। ফলে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি এবং অভিযান না থাকায় নিম্নমানের এসব খাদ্যপণ্যের বিক্রি দিন দিন বাড়ছে। পাশাপাশি শিশু ও অভিভাবকদের সচেতন করতে দৃশ্যমান প্রচার-প্রচারণারও প্রয়োজন রয়েছে।

তাদের দাবি, দ্রুত এসব অনিরাপদ ও মানহীন খাদ্যপণ্যের বিক্রি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যের মান পরীক্ষা, অনুমোদন যাচাই এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।