ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম Logo মজুরি দাবিতে পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মালিকপক্ষের দাবি অর্থসংকট Logo হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলায় জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo হাইমচরে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, শতাধিক শিক্ষার্থীকে সচেতনতা Logo মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, চোটে নেই মুশফিক Logo মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে বিজিবির অভিযান, দেড় লাখ টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ Logo ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা Logo হাইমচরের উত্তর আলগীতে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা Logo মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে বিজিবির অভিযান, দেড় লাখ টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ Logo মাধবপুরে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার মামলায় আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড

চা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম উৎসব’ সম্পন্ন

চুনারুঘাট প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নলুয়া চা বাগানে চা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকঢোল, পূজা-অর্চনা, নাচ-গান ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদযাপন করেন চা জনগোষ্ঠীর মানুষ।

কারাম উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই নলুয়া চা বাগানে ছিল প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ। মূল আয়োজন শুরু হয় দুপুরে। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীতে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে নলুয়া ফুটবল মাঠে কারাম গাছের ডাল পুঁতে তাতে বিভিন্ন ধরনের ফুল দিয়ে সাজানো হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। বাবা ও ভাইদের মঙ্গল কামনাসহ নিজেদের বিপদ থেকে মুক্তি ও দেশের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন উৎসবে অংশ নেওয়া চা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নলুয়া চা জনগোষ্ঠীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জের সুরমা, তেলিপাড়া, সাতছড়ি, বেগম খানসহ ২৪টি চা বাগানের নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উৎসবে উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবে চা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। নাচ-গান, গল্প বলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবস্থলে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অবলম্বন’ এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রতন মুন্ডা। সাধারণ সম্পাদক হরেন্দ্র উড়াংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার, ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ, নলুয়া চা বাগানের ম্যানেজার তারিফ মনোয়ার, সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের ছোট ভাই ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজু, সিলেট মহানগর হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ আহমেদ, কারাম উৎসবের উপদেষ্টা কপিল উড়াং এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুবাস ঝরাসহ অন্যরা।

কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি রতন মুন্ডা বলেন, কারাম একটি গাছের নাম, যা চা জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পবিত্র ও মঙ্গলের প্রতীক। বংশপরম্পরায় প্রতিবছর এই পূজা ও উৎসব উদযাপন করা হয়। উৎসবকে ঘিরে চুনারুঘাটের চা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, উৎসবের অংশ হিসেবে সম্প্রদায়ের লোকজন উপবাস পালন করেন এবং কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে তা অস্থায়ী মণ্ডপে স্থাপন করেন। পরে পূজা-অর্চনা, নাচ-গান ও গল্প বলার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই কারাম উৎসবকে ঘিরে চা জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। নিজেদের বিপদ থেকে মুক্তি এবং দেশের মঙ্গল কামনায় তারা কারাম পূজা করেন। এ সময় তিনি সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের মাধ্যমে চা শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাসের কথা জানান।

চা জনগোষ্ঠীর মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে কারাম উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

error:

চা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম উৎসব’ সম্পন্ন

আপডেট সময় ০৯:২২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুনারুঘাট প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নলুয়া চা বাগানে চা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকঢোল, পূজা-অর্চনা, নাচ-গান ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি উদযাপন করেন চা জনগোষ্ঠীর মানুষ।

কারাম উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই নলুয়া চা বাগানে ছিল প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ। মূল আয়োজন শুরু হয় দুপুরে। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীতে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে নলুয়া ফুটবল মাঠে কারাম গাছের ডাল পুঁতে তাতে বিভিন্ন ধরনের ফুল দিয়ে সাজানো হয়। প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। বাবা ও ভাইদের মঙ্গল কামনাসহ নিজেদের বিপদ থেকে মুক্তি ও দেশের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন উৎসবে অংশ নেওয়া চা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নলুয়া চা জনগোষ্ঠীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জের সুরমা, তেলিপাড়া, সাতছড়ি, বেগম খানসহ ২৪টি চা বাগানের নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উৎসবে উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবে চা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। নাচ-গান, গল্প বলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবস্থলে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অবলম্বন’ এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রতন মুন্ডা। সাধারণ সম্পাদক হরেন্দ্র উড়াংয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার, ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ, নলুয়া চা বাগানের ম্যানেজার তারিফ মনোয়ার, সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের ছোট ভাই ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজু, সিলেট মহানগর হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ আহমেদ, কারাম উৎসবের উপদেষ্টা কপিল উড়াং এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুবাস ঝরাসহ অন্যরা।

কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি রতন মুন্ডা বলেন, কারাম একটি গাছের নাম, যা চা জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে পবিত্র ও মঙ্গলের প্রতীক। বংশপরম্পরায় প্রতিবছর এই পূজা ও উৎসব উদযাপন করা হয়। উৎসবকে ঘিরে চুনারুঘাটের চা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, উৎসবের অংশ হিসেবে সম্প্রদায়ের লোকজন উপবাস পালন করেন এবং কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে তা অস্থায়ী মণ্ডপে স্থাপন করেন। পরে পূজা-অর্চনা, নাচ-গান ও গল্প বলার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই কারাম উৎসবকে ঘিরে চা জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। নিজেদের বিপদ থেকে মুক্তি এবং দেশের মঙ্গল কামনায় তারা কারাম পূজা করেন। এ সময় তিনি সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের মাধ্যমে চা শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাসের কথা জানান।

চা জনগোষ্ঠীর মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে কারাম উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।