ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে জয়-পরাজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে উন্নয়নের আহ্বান মির্জা ফয়সল আমিনের Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট Logo জুমার জামাতে ঐক্য, সমাজে বিভেদের দেয়াল Logo লাখাইয়ে বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিমকে বিদায় সংবর্ধনা

চলন্ত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া ফখরুদ্দিনের লাশ ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মো. ফখরুদ্দিনের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার স্থানেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

নিহত ফখরুদ্দিন লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ভরপুর্নী নোয়াহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুল্লা বাজার থেকে সুজাতপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ফখরুদ্দিনসহ অন্যান্য যাত্রী ছিলেন। ট্রলারটি ভরপুর্নী গ্রামের কাছে পৌঁছালে তিনি এক নারী যাত্রীর কাছে টাকা চাইতে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী রাসেল মিয়া এবং অপর যাত্রী বোরহান মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ফখরুদ্দিনকে ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় যাত্রীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দিনে তার সন্ধান মেলেনি।

পরবর্তীতে রাতের দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই নদীতে ফখরুদ্দিনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে রাখলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন মোড়াকরি গ্রামের রাসেল মিয়া (২২) এবং বুল্লা বাজার এলাকার বোরহান মিয়া (২৬)।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার

error:

চলন্ত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া ফখরুদ্দিনের লাশ ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মো. ফখরুদ্দিনের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার স্থানেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

নিহত ফখরুদ্দিন লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ভরপুর্নী নোয়াহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুল্লা বাজার থেকে সুজাতপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ফখরুদ্দিনসহ অন্যান্য যাত্রী ছিলেন। ট্রলারটি ভরপুর্নী গ্রামের কাছে পৌঁছালে তিনি এক নারী যাত্রীর কাছে টাকা চাইতে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী রাসেল মিয়া এবং অপর যাত্রী বোরহান মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ফখরুদ্দিনকে ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় যাত্রীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দিনে তার সন্ধান মেলেনি।

পরবর্তীতে রাতের দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই নদীতে ফখরুদ্দিনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে রাখলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন মোড়াকরি গ্রামের রাসেল মিয়া (২২) এবং বুল্লা বাজার এলাকার বোরহান মিয়া (২৬)।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।