ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

চলন্ত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া ফখরুদ্দিনের লাশ ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মো. ফখরুদ্দিনের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার স্থানেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

নিহত ফখরুদ্দিন লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ভরপুর্নী নোয়াহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুল্লা বাজার থেকে সুজাতপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ফখরুদ্দিনসহ অন্যান্য যাত্রী ছিলেন। ট্রলারটি ভরপুর্নী গ্রামের কাছে পৌঁছালে তিনি এক নারী যাত্রীর কাছে টাকা চাইতে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী রাসেল মিয়া এবং অপর যাত্রী বোরহান মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ফখরুদ্দিনকে ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় যাত্রীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দিনে তার সন্ধান মেলেনি।

পরবর্তীতে রাতের দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই নদীতে ফখরুদ্দিনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে রাখলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন মোড়াকরি গ্রামের রাসেল মিয়া (২২) এবং বুল্লা বাজার এলাকার বোরহান মিয়া (২৬)।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

চলন্ত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া ফখরুদ্দিনের লাশ ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক মো. ফখরুদ্দিনের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার স্থানেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

নিহত ফখরুদ্দিন লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ভরপুর্নী নোয়াহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুল্লা বাজার থেকে সুজাতপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ফখরুদ্দিনসহ অন্যান্য যাত্রী ছিলেন। ট্রলারটি ভরপুর্নী গ্রামের কাছে পৌঁছালে তিনি এক নারী যাত্রীর কাছে টাকা চাইতে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী রাসেল মিয়া এবং অপর যাত্রী বোরহান মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ফখরুদ্দিনকে ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর স্থানীয় যাত্রীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দিনে তার সন্ধান মেলেনি।

পরবর্তীতে রাতের দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই নদীতে ফখরুদ্দিনের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে রাখলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন মোড়াকরি গ্রামের রাসেল মিয়া (২২) এবং বুল্লা বাজার এলাকার বোরহান মিয়া (২৬)।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।