ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য অলি গ্রেপ্তার Logo লাখাইয়ে রোপা আমনের আবাদ শেষ পর্যায়ে, সবুজে ছেয়ে গেছে হাওর Logo বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব Logo হাইমচরে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪, বিভিন্ন মামলায় আরও ৬ Logo মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন Logo মরেও অমর লিটন দাশ, মেডিকেল শিক্ষায় দেহ দান Logo ডোপ টেস্ট পজিটিভ, পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত Logo মঙ্গলবার রাত থেকে কলকারখানায় আগের মতো গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস Logo লাখাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী ফিল্টার শিল্প বিলুপ্তির পথে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

বাংলার খবর ডেস্ক:
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে বিদ্যমান প্রবিধানমালা সংশোধনের জন্য নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ রাখা হবে। তবে সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বহাল থাকছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। সেখানে খসড়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন শ্রেণির সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদস্য নির্বাচন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচনের সভা আহ্বান করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

উপস্থিত নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন। তবে সভাপতি নির্বাচনের সভায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিধানও রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালায় সভাপতির জন্য নির্ধারিত স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারী ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। একজন ব্যক্তি একই ধরনের সর্বোচ্চ দুটি এবং মেয়াদভিত্তিক ধরনের সর্বোচ্চ তিনটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন—এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন খসড়ায় সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তালিকায় কারও নাম আগে বা পরে থাকার বিষয়টি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এ ছাড়া ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচিত সভাপতির কিছু ক্ষমতা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতাও রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। খসড়া অনুযায়ী, সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সুপারিশ করা শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগও রাখা হয়েছে।

এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগ বা পদোন্নতির বিধানও প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় রাখা হয়েছে।

তবে নতুন প্রবিধানমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, খসড়া নিয়ে আরও আলোচনা ও সংশোধন হতে পারে। এরপর শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে তা চূড়ান্ত করে নীতিমালা আকারে জারি করা হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা এখনই চূড়ান্ত হয়েছে বলা যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে এতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য অলি গ্রেপ্তার

error:

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

আপডেট সময় ০৬:০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলার খবর ডেস্ক:
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে বিদ্যমান প্রবিধানমালা সংশোধনের জন্য নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ রাখা হবে। তবে সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বহাল থাকছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। সেখানে খসড়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন শ্রেণির সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সদস্য নির্বাচন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচনের সভা আহ্বান করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

উপস্থিত নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন। তবে সভাপতি নির্বাচনের সভায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিধানও রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালায় সভাপতির জন্য নির্ধারিত স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারী ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। একজন ব্যক্তি একই ধরনের সর্বোচ্চ দুটি এবং মেয়াদভিত্তিক ধরনের সর্বোচ্চ তিনটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন—এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন খসড়ায় সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তালিকায় কারও নাম আগে বা পরে থাকার বিষয়টি অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এ ছাড়া ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচিত সভাপতির কিছু ক্ষমতা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতাও রয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। খসড়া অনুযায়ী, সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিধি অনুসারে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সুপারিশ করা শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগও রাখা হয়েছে।

এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধনপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগ বা পদোন্নতির বিধানও প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় রাখা হয়েছে।

তবে নতুন প্রবিধানমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, খসড়া নিয়ে আরও আলোচনা ও সংশোধন হতে পারে। এরপর শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে তা চূড়ান্ত করে নীতিমালা আকারে জারি করা হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা এখনই চূড়ান্ত হয়েছে বলা যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে এতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।