ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চুনারুঘাটে হুইলচেয়ারেই কাটে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেবের জীবন

আব্দুর রাজ্জাক রাজু, চুনারুঘাটঃ
দুটি পা অচল। চলাচলের একমাত্র অবলম্বন হুইলচেয়ার। সেই হুইলচেয়ারে ভর করেই বছরের পর বছর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের বড়ব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেব। তবে বর্ষা এলেই তাঁর শিক্ষকতার সংগ্রাম হয়ে ওঠে আরও কঠিন।

হাঁটুসমান কাদা, কাঁচা ও পিচ্ছিল রাস্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পেরিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাঁকে। আহমেদাবাদ ইউনিয়নের রাজার বাজারে নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। সাধারণ মানুষের জন্যই যেখানে চলাচল কঠিন, সেখানে হুইলচেয়ারে করে এই পথ পাড়ি দেওয়া তাঁর জন্য রীতিমতো দুর্ভোগের।

১৯৯৯ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন কল্যাণ কুমার দেব। ২০১৩ সালে বড়ব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে ইংরেজি বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে পরিচিতি পান। উপজেলার প্রায় সাড়ে সাতশ শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে একজন বিনয়ী ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে।

২০১৮ সালে একটি দুর্ঘটনায় ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। দীর্ঘদিন সিআরপিতে চিকিৎসার পর জীবন ফিরে পেলেও হারিয়ে ফেলেন দুই পায়ের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা। এরপরও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা বেতনে একজন সহকারী সঙ্গে নিয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাঁকে। বর্ষায় কাদা-পানি বেড়ে গেলে সেই যাত্রা হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পথের ব্রিজটি পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁকে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও যাতায়াতের এমন দুর্ভোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে পিছপা হননি এই শিক্ষক। তবে দীর্ঘদিনের এই কষ্ট ও বর্ষাকালের দুর্ভোগ তাঁর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সমাজের দাবি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন শিক্ষকদের জন্য বিদ্যমান মানবিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে কল্যাণ কুমার দেবকে দ্রুত বাড়ির কাছাকাছি কোনো বিদ্যালয়ে বদলি করা হোক। এতে একদিকে তাঁর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের শিক্ষকতা জীবন আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আপত্তির মুখেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের কনসার্টে শ্রোতাদের ঢল

error:

চুনারুঘাটে হুইলচেয়ারেই কাটে প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেবের জীবন

আপডেট সময় ১১:২৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আব্দুর রাজ্জাক রাজু, চুনারুঘাটঃ
দুটি পা অচল। চলাচলের একমাত্র অবলম্বন হুইলচেয়ার। সেই হুইলচেয়ারে ভর করেই বছরের পর বছর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের বড়ব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার দেব। তবে বর্ষা এলেই তাঁর শিক্ষকতার সংগ্রাম হয়ে ওঠে আরও কঠিন।

হাঁটুসমান কাদা, কাঁচা ও পিচ্ছিল রাস্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ পেরিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাঁকে। আহমেদাবাদ ইউনিয়নের রাজার বাজারে নিজ বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। সাধারণ মানুষের জন্যই যেখানে চলাচল কঠিন, সেখানে হুইলচেয়ারে করে এই পথ পাড়ি দেওয়া তাঁর জন্য রীতিমতো দুর্ভোগের।

১৯৯৯ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন কল্যাণ কুমার দেব। ২০১৩ সালে বড়ব্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে ইংরেজি বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে পরিচিতি পান। উপজেলার প্রায় সাড়ে সাতশ শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে একজন বিনয়ী ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে।

২০১৮ সালে একটি দুর্ঘটনায় ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। দীর্ঘদিন সিআরপিতে চিকিৎসার পর জীবন ফিরে পেলেও হারিয়ে ফেলেন দুই পায়ের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা। এরপরও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা বেতনে একজন সহকারী সঙ্গে নিয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাঁকে। বর্ষায় কাদা-পানি বেড়ে গেলে সেই যাত্রা হয়ে ওঠে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পথের ব্রিজটি পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁকে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও যাতায়াতের এমন দুর্ভোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে পিছপা হননি এই শিক্ষক। তবে দীর্ঘদিনের এই কষ্ট ও বর্ষাকালের দুর্ভোগ তাঁর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সমাজের দাবি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন শিক্ষকদের জন্য বিদ্যমান মানবিক সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে কল্যাণ কুমার দেবকে দ্রুত বাড়ির কাছাকাছি কোনো বিদ্যালয়ে বদলি করা হোক। এতে একদিকে তাঁর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের শিক্ষকতা জীবন আরও নিরাপদ ও স্বাভাবিক হবে।