
ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ‘সমঝোতার’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আপত্তির পর মূল ক্যাম্পাস থেকে কনসার্টের ভেন্যু সরিয়ে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটি। তবে প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে সেখানে শিক্ষার্থী ও শ্রোতাদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’।
এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হক।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকরা শুরু থেকেই এটিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে আসছিলেন। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার পর মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র হাসান ইথার ও দলের সদস্যরা। তাদের গানে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী ও দর্শকরা।
তিনটি গান পরিবেশনের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর আবারও সংগীত পরিবেশন করেন হাসান ইথার ও তার দল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের বাসভবনে কওমি ছাত্র নেতাদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের ‘সমঝোতা বৈঠক’ হয়। বৈঠকে কলেজের প্রধান ক্যাম্পাসে নবীনবরণ, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ‘অশ্লীলতা হবে না’—এমন শর্তও দেওয়া হয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















