ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

সাতছড়িতে বিপন্ন গন্ধগোকুল অবমুক্ত

আব্দুল জাহির মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিপন্ন প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল অবমুক্ত করা হয়েছে।

১২ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রাণীটিকে অবমুক্ত করা হয়। এর আগে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নাগুরা গ্রাম থেকে বিপন্ন গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করা হয়। হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জার মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল বনকর্মী প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসেন।

পরবর্তীতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে গন্ধগোকুলটিকে অক্ষত অবস্থায় সাতছড়ি বনে অবমুক্ত করা হয়। রেঞ্জার মাহমুদ হোসেন জানান, প্রাণীটি সুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, গন্ধগোকুলটি আকারে তুলনামূলক বড়। শরীরের দাগের কারণে স্থানীয়রা একে বাগডাশ নামে চেনে। নিশাচর প্রাণী হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে এটি ফাঁদে আটকে যায়।

সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, গন্ধগোকুল শত্রুর মুখে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য একধরনের কাঁদানে গ্যাস স্প্রে করে। প্রাণীটি দেখতে পোষা বিড়ালের মতো হলেও খাটো পা, লম্বা লেজ ও বাদামি রঙের শরীরের কারণে আলাদা করে চেনা যায়। লেজে সাতটি কালো বলয়, গলার নিচে দুটি কালো টান এবং পিঠে মেরুদণ্ড বরাবর ছয়টি লম্বা বাদামি রেখা থাকে।

তিনি আরও জানান, নিরীহ স্বভাবের এই প্রাণীকে গন্ধগোকুল, ছোট বাগডাশ, ছোট খাটাশ, গন্ধগুলা ও হাইলটালা নামেও ডাকা হয়। লেজসহ দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার, উচ্চতা প্রায় ২২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হয়। এদের গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ১৫ বছর।

গন্ধগোকুল সাধারণত ঝোপঝাড়, বাগান ও ঘরের ছাদে বাসা বাঁধে। এরা ধানখেতের ইঁদুর, গেছো ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, পাখি, ডিম, ব্যাঙ, শামুক ও বিভিন্ন ফল খেয়ে থাকে। তাল ও খেজুরের রস এদের প্রিয় খাদ্য। বছরে অন্তত দুইবার বাচ্চা দেয় এই প্রাণী।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

সাতছড়িতে বিপন্ন গন্ধগোকুল অবমুক্ত

আপডেট সময় ০৬:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আব্দুল জাহির মিয়া, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিপন্ন প্রজাতির একটি গন্ধগোকুল অবমুক্ত করা হয়েছে।

১২ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রাণীটিকে অবমুক্ত করা হয়। এর আগে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নাগুরা গ্রাম থেকে বিপন্ন গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করা হয়। হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জার মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে একদল বনকর্মী প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসেন।

পরবর্তীতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে গন্ধগোকুলটিকে অক্ষত অবস্থায় সাতছড়ি বনে অবমুক্ত করা হয়। রেঞ্জার মাহমুদ হোসেন জানান, প্রাণীটি সুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা বন্যপ্রাণী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া বলেন, গন্ধগোকুলটি আকারে তুলনামূলক বড়। শরীরের দাগের কারণে স্থানীয়রা একে বাগডাশ নামে চেনে। নিশাচর প্রাণী হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে এটি ফাঁদে আটকে যায়।

সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, গন্ধগোকুল শত্রুর মুখে পড়লে আত্মরক্ষার জন্য একধরনের কাঁদানে গ্যাস স্প্রে করে। প্রাণীটি দেখতে পোষা বিড়ালের মতো হলেও খাটো পা, লম্বা লেজ ও বাদামি রঙের শরীরের কারণে আলাদা করে চেনা যায়। লেজে সাতটি কালো বলয়, গলার নিচে দুটি কালো টান এবং পিঠে মেরুদণ্ড বরাবর ছয়টি লম্বা বাদামি রেখা থাকে।

তিনি আরও জানান, নিরীহ স্বভাবের এই প্রাণীকে গন্ধগোকুল, ছোট বাগডাশ, ছোট খাটাশ, গন্ধগুলা ও হাইলটালা নামেও ডাকা হয়। লেজসহ দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার, উচ্চতা প্রায় ২২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত হয়। এদের গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ১৫ বছর।

গন্ধগোকুল সাধারণত ঝোপঝাড়, বাগান ও ঘরের ছাদে বাসা বাঁধে। এরা ধানখেতের ইঁদুর, গেছো ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, পাখি, ডিম, ব্যাঙ, শামুক ও বিভিন্ন ফল খেয়ে থাকে। তাল ও খেজুরের রস এদের প্রিয় খাদ্য। বছরে অন্তত দুইবার বাচ্চা দেয় এই প্রাণী।