ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মজুরি না পেয়ে সংকটে হাজারো শ্রমিক Logo ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের Logo কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় Logo তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার Logo চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কার্যক্রমে গড়িমসির কারণে উপজেলা শিক্ষা বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহল।

জানা যায়, গত ১৪ জুলাই ‘পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়: শিক্ষার মান, নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাহিদ মিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেননি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, ফোনে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষিকাদের পক্ষে অনুকূল প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্রভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বেগম, সহকারী শিক্ষিকা বাহার বেগম এবং সহকারী শিক্ষিকা ডলি বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, মিড-ডে মিল কার্যক্রমে অনিয়ম, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা এবং শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরা খুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা ও বিভাগীয় শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মজুরি না পেয়ে সংকটে হাজারো শ্রমিক

error:

বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ

আপডেট সময় ১১:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কার্যক্রমে গড়িমসির কারণে উপজেলা শিক্ষা বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহল।

জানা যায়, গত ১৪ জুলাই ‘পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়: শিক্ষার মান, নিয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাহিদ মিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেননি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, ফোনে সংক্ষিপ্ত কথা বলার পর তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষিকাদের পক্ষে অনুকূল প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্রভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বেগম, সহকারী শিক্ষিকা বাহার বেগম এবং সহকারী শিক্ষিকা ডলি বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করানো, মিড-ডে মিল কার্যক্রমে অনিয়ম, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা এবং শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরা খুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা ও বিভাগীয় শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।