ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় সুদিন ফেরাতে প্রয়োজন সূতাং নদীর ব্রিজ ও গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়ন

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। অনেক সময় শিক্ষকদের উদাসীনতাকে দায়ী করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তীব্র শিক্ষক সংকটই উপজেলার শিক্ষা খাতকে পিছিয়ে রাখার প্রধান কারণ।

লাখাই উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত। অনেক শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন, নৌকা পারাপার এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। ফলে ক্লাসের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাতায়াতের ক্ষেত্রে গাড়ি ও নৌকার সময়সূচির কোনো সমন্বয় নেই। সামান্য দেরিতে গাড়ি পৌঁছালে নৌকা মিস হয়, আর নৌকা মিস হলে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগে। এতে শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে ৬নং বুল্লা ইউনিয়ন। হেলাকান্দি, চাঁনপুর, ফরিদপুর ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বুল্লাবাজার সংলগ্ন সূতাং নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শত শত মানুষকে নদী পার হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

একইভাবে ১নং লাখাই ইউনিয়নের শিবপুরসহ নদীর ওপারের কয়েকটি গ্রামও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।

করাব ও মোড়াকরি ইউনিয়নের আগাপুর, হরিণাকোনা হুসেনপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের সড়ক এখনও কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় যাতায়াত আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ফলে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটও লাখাইয়ের শিক্ষা খাতের বড় সমস্যা। অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় দুর্গম পথে যাতায়াত আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মতে, লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে বুল্লাবাজার সংলগ্ন সূতাং নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ, লাখাই-শিবপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ, করাব ও মোড়াকরি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণ এবং শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ অন্যতম।

এলাকাবাসীর দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান না করে শুধুমাত্র শিক্ষকদের দায়ী করলে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে এবং সামগ্রিক উন্নয়নের পথও সুগম হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

error:

লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় সুদিন ফেরাতে প্রয়োজন সূতাং নদীর ব্রিজ ও গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়ন

আপডেট সময় ০৮:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। অনেক সময় শিক্ষকদের উদাসীনতাকে দায়ী করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তীব্র শিক্ষক সংকটই উপজেলার শিক্ষা খাতকে পিছিয়ে রাখার প্রধান কারণ।

লাখাই উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত। অনেক শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন, নৌকা পারাপার এবং দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। ফলে ক্লাসের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাতায়াতের ক্ষেত্রে গাড়ি ও নৌকার সময়সূচির কোনো সমন্বয় নেই। সামান্য দেরিতে গাড়ি পৌঁছালে নৌকা মিস হয়, আর নৌকা মিস হলে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগে। এতে শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে ৬নং বুল্লা ইউনিয়ন। হেলাকান্দি, চাঁনপুর, ফরিদপুর ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বুল্লাবাজার সংলগ্ন সূতাং নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় নৌকাই একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শত শত মানুষকে নদী পার হতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

একইভাবে ১নং লাখাই ইউনিয়নের শিবপুরসহ নদীর ওপারের কয়েকটি গ্রামও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছে না।

করাব ও মোড়াকরি ইউনিয়নের আগাপুর, হরিণাকোনা হুসেনপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের সড়ক এখনও কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় যাতায়াত আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ফলে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটও লাখাইয়ের শিক্ষা খাতের বড় সমস্যা। অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ শিক্ষক নারী হওয়ায় দুর্গম পথে যাতায়াত আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মতে, লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে বুল্লাবাজার সংলগ্ন সূতাং নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ, লাখাই-শিবপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ, করাব ও মোড়াকরি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণ এবং শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ অন্যতম।

এলাকাবাসীর দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান না করে শুধুমাত্র শিক্ষকদের দায়ী করলে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে এবং সামগ্রিক উন্নয়নের পথও সুগম হবে।