ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

লাখাইয়ের হাওরে পাখির কান্না, মরণফাঁদে শেষ হচ্ছে পরিযায়ী পাখির জীবন

পারভেজ হাসান | লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির আনাগোনা বাড়লেও থামছে না পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে পাখি শিকার। অভিযোগ রয়েছে, শিকার করা এসব পাখি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে যেখানে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হওয়ার কথা, সেখানে চলছে শিকারিদের রাজত্ব। একদল অসাধু শিকারি জাল, বিষটোপ ও বিভিন্ন মরণফাঁদ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত পাখি শিকার করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধার ও ভোরের সময় পাখিরা খাবারের সন্ধানে বের হলে তখনই তাদের লক্ষ্য করে এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বন্যপাখি গোপনে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে পাখির মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকায় চড়া দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শিকার করা পাখিগুলো। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বা উপেক্ষা করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে অবাধ পাখি নিধন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী পাখি শিকার ও কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং হাটবাজারগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

লাখাইয়ের হাওরে পাখির কান্না, মরণফাঁদে শেষ হচ্ছে পরিযায়ী পাখির জীবন

আপডেট সময় ০৮:১৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

পারভেজ হাসান | লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির আনাগোনা বাড়লেও থামছে না পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে পাখি শিকার। অভিযোগ রয়েছে, শিকার করা এসব পাখি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে যেখানে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হওয়ার কথা, সেখানে চলছে শিকারিদের রাজত্ব। একদল অসাধু শিকারি জাল, বিষটোপ ও বিভিন্ন মরণফাঁদ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত পাখি শিকার করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধার ও ভোরের সময় পাখিরা খাবারের সন্ধানে বের হলে তখনই তাদের লক্ষ্য করে এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বন্যপাখি গোপনে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে পাখির মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকায় চড়া দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শিকার করা পাখিগুলো। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বা উপেক্ষা করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে অবাধ পাখি নিধন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী পাখি শিকার ও কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং হাটবাজারগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।