ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

লাখাইয়ের হাওরে পাখির কান্না, মরণফাঁদে শেষ হচ্ছে পরিযায়ী পাখির জীবন

পারভেজ হাসান | লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির আনাগোনা বাড়লেও থামছে না পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে পাখি শিকার। অভিযোগ রয়েছে, শিকার করা এসব পাখি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে যেখানে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হওয়ার কথা, সেখানে চলছে শিকারিদের রাজত্ব। একদল অসাধু শিকারি জাল, বিষটোপ ও বিভিন্ন মরণফাঁদ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত পাখি শিকার করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধার ও ভোরের সময় পাখিরা খাবারের সন্ধানে বের হলে তখনই তাদের লক্ষ্য করে এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বন্যপাখি গোপনে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে পাখির মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকায় চড়া দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শিকার করা পাখিগুলো। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বা উপেক্ষা করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে অবাধ পাখি নিধন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী পাখি শিকার ও কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং হাটবাজারগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

error:

লাখাইয়ের হাওরে পাখির কান্না, মরণফাঁদে শেষ হচ্ছে পরিযায়ী পাখির জীবন

আপডেট সময় ০৮:১৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

পারভেজ হাসান | লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির আনাগোনা বাড়লেও থামছে না পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে পাখি শিকার। অভিযোগ রয়েছে, শিকার করা এসব পাখি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে যেখানে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হওয়ার কথা, সেখানে চলছে শিকারিদের রাজত্ব। একদল অসাধু শিকারি জাল, বিষটোপ ও বিভিন্ন মরণফাঁদ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত পাখি শিকার করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধার ও ভোরের সময় পাখিরা খাবারের সন্ধানে বের হলে তখনই তাদের লক্ষ্য করে এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বন্যপাখি গোপনে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে পাখির মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকায় চড়া দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শিকার করা পাখিগুলো। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বা উপেক্ষা করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে অবাধ পাখি নিধন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী পাখি শিকার ও কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং হাটবাজারগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।