ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কেউ যেন নতুনভাবে উস্কানিতে লিপ্ত না হই, শিবিরকে অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির Logo লাখাইয়ে বিধবার জমি দখলে বাধা, আদালতের রায় কার্যকর চেয়ে থানায় অভিযোগ Logo শাহজীবাজারে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ: হবিগঞ্জে শুক্রবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ Logo সাইফ, তামিম, সৌম্যর দ্রুত বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ Logo লাখাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে অচলাবস্থা, সেবা না পেয়ে দুর্ভোগে এলাকাবাসী Logo মাধবপুরে চিকিৎসক সংকটে দুই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মিডওয়াইফ দিয়ে চলছে সেবা Logo হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo হারিয়ে যাচ্ছে দলবেঁধে ধান কাটার উৎসব Logo হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় ঔষধ ও ফুচকা জব্দ Logo লাখাইয়ে মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের উদ্যোগে খামারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লাখাইয়ের হাওরে পাখির কান্না, মরণফাঁদে শেষ হচ্ছে পরিযায়ী পাখির জীবন

পারভেজ হাসান | লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির আনাগোনা বাড়লেও থামছে না পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে পাখি শিকার। অভিযোগ রয়েছে, শিকার করা এসব পাখি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে যেখানে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হওয়ার কথা, সেখানে চলছে শিকারিদের রাজত্ব। একদল অসাধু শিকারি জাল, বিষটোপ ও বিভিন্ন মরণফাঁদ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত পাখি শিকার করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধার ও ভোরের সময় পাখিরা খাবারের সন্ধানে বের হলে তখনই তাদের লক্ষ্য করে এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বন্যপাখি গোপনে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে পাখির মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকায় চড়া দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শিকার করা পাখিগুলো। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বা উপেক্ষা করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে অবাধ পাখি নিধন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী পাখি শিকার ও কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং হাটবাজারগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

কেউ যেন নতুনভাবে উস্কানিতে লিপ্ত না হই, শিবিরকে অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

error:

লাখাইয়ের হাওরে পাখির কান্না, মরণফাঁদে শেষ হচ্ছে পরিযায়ী পাখির জীবন

আপডেট সময় ০৮:১৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

পারভেজ হাসান | লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শীত মৌসুমে হাওরাঞ্চলে পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির আনাগোনা বাড়লেও থামছে না পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে পাখি শিকার। অভিযোগ রয়েছে, শিকার করা এসব পাখি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে যেখানে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হওয়ার কথা, সেখানে চলছে শিকারিদের রাজত্ব। একদল অসাধু শিকারি জাল, বিষটোপ ও বিভিন্ন মরণফাঁদ ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত পাখি শিকার করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধার ও ভোরের সময় পাখিরা খাবারের সন্ধানে বের হলে তখনই তাদের লক্ষ্য করে এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব বন্যপাখি গোপনে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে পাখির মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকায় চড়া দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শিকার করা পাখিগুলো। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বা উপেক্ষা করেই এই অবৈধ বাণিজ্য চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে অবাধ পাখি নিধন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী পাখি শিকার ও কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং হাটবাজারগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।