ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ‘সাকিব যেকোনো সময় চলে আসতে পারে’ Logo অন্যায় করলে ছাড় নেই, মিথ্যা মামলায় হয়রানি নয় — মাধবপুরে এমপি সৈয়দ মোঃ ফয়সল Logo প্রেমিকের সহায়তায় শাশুড়িকে হত্যা, আদালতে দায় স্বীকার গৃহবধূর Logo মাধবপুরে নেশাগ্রস্ত ছেলের অত্যাচারে পিতা বাড়িছাড়া, ইউএনওর কাছে অভিযোগ Logo বামৈ গ্রামে সীমানা বিরোধের জেরে বৃদ্ধার মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া Logo ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নারী নিহত Logo চেয়ারম্যানের এক মুখে দুই বক্তব্য—কোনটি সঠিক? Logo পূর্ব ইটাখোলায় ক্বারিয়ানা সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ, অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ: মাহদী আমিন Logo ঈদের আগে উপজেলা, পরে পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ

জবানবন্দিতে জিয়াউলকে নিয়ে যা বললেন সাবেক সেনাপ্রধান

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার জবানবন্দিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান অস্বাভাবিকভাবে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন এবং তার সময়েই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের সূত্রে তিনি জানতে পারেন, জিয়াউলের নেতৃত্বে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানান, জিয়াউল নিজের বাসভবনে অস্ত্র রাখতেন, ব্যক্তিগত গার্ড নিয়োগ দেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি স্থাপন করেন, যা সামরিক বিধির পরিপন্থী। এসব সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং পরবর্তী সময়ে তার আচরণ আরও কঠোর ও অবাধ্য হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল তাকে জানিয়েছিলেন, জিয়াউলের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তিনি কোনো নির্দেশ মানতে প্রস্তুত নন। একপর্যায়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে জিয়াউল সরাসরি সেনাপ্রধানের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে তাকে ক্যান্টনমেন্টের একটি অংশে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে সেনাবাহিনীতে স্বাধীনচেতা ও মেধাবী কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়নের সংস্কৃতি চালু হয়। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, শতাধিক গুম ও হত্যা মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে। এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সাকিব যেকোনো সময় চলে আসতে পারে’

error:

জবানবন্দিতে জিয়াউলকে নিয়ে যা বললেন সাবেক সেনাপ্রধান

আপডেট সময় ০৭:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার জবানবন্দিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান অস্বাভাবিকভাবে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন এবং তার সময়েই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের সূত্রে তিনি জানতে পারেন, জিয়াউলের নেতৃত্বে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানান, জিয়াউল নিজের বাসভবনে অস্ত্র রাখতেন, ব্যক্তিগত গার্ড নিয়োগ দেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি স্থাপন করেন, যা সামরিক বিধির পরিপন্থী। এসব সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং পরবর্তী সময়ে তার আচরণ আরও কঠোর ও অবাধ্য হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল তাকে জানিয়েছিলেন, জিয়াউলের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তিনি কোনো নির্দেশ মানতে প্রস্তুত নন। একপর্যায়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে জিয়াউল সরাসরি সেনাপ্রধানের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে তাকে ক্যান্টনমেন্টের একটি অংশে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে সেনাবাহিনীতে স্বাধীনচেতা ও মেধাবী কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়নের সংস্কৃতি চালু হয়। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, শতাধিক গুম ও হত্যা মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে। এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।