ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিতা-পুত্রসহ আহত একাধিক Logo লাখাইয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo ৭২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মাধবপুরে পুলিশের অভিযান Logo গায়ক আসিফ আকবর গ্রেফতার Logo স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সীমান্তে অব্যাহত বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে বিজিবি Logo মাধবপুরে সুরমা চা বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া, আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা Logo চুনারুঘাটে বসতঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

কে ছিলেন ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম

বাংলার সবুজ পল্লি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভুবন গ্রামে ১৮৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম। তাঁর পিতা ছিলেন মাওলানা আনোয়ার আলী এবং মাতা জোবায়দা খাতুন। জন্মের পর পিতা তাঁর নাম রাখেন তাজুল ইসলাম, যার অর্থ ‘ইসলামের মুকুট’।

শৈশব থেকেই তিনি অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন। বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাত্র নয় মাসের মধ্যেই তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই মুখস্থ করে ফেলেন। ছেলের মেধা দেখে তাঁর পিতা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করান। তিনি হবিগঞ্জের বাহরুল উলুম মাদ্রাসা ও সিলেট আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।

সিলেটের প্রখ্যাত কারি আবদুশ শহিদ (রহ.) একবার মন্তব্য করেছিলেন, আল্লামা তাজুল ইসলামের উত্তরপত্রে কোনো ভুল বা কাটাকাটি থাকত না এবং তাঁর ভাষা ছিল অত্যন্ত শুদ্ধ ও নির্ভুল।

পরবর্তীতে তিনি ভারতের বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। সেখানে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তাফসির, ফিকহ, হাদিস ও আরবি সাহিত্যে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.), শাব্বির আহমাদ উসমানি (রহ.) ও আল্লামা ইজাজ আলীর মতো খ্যাতিমান আলেমদের সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেন।

কর্মজীবনে তিনি প্রথমে কুমিল্লার জামিয়া মিল্লিয়া এবং কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় এ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে অসংখ্য আলেম ও চিন্তাবিদ তৈরি হয়েছেন।

জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পাশাপাশি তিনি শারীরিক শক্তির জন্যও পরিচিত ছিলেন। একবার কুমিল্লা রেলস্টেশনে এক কাবুলিওয়ালার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাকে পরাজিত করার ঘটনা নিয়ে নানা কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।

দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ১৯৬৭ সালের ৩ এপ্রিল এই বিশিষ্ট আলেম ইন্তেকাল করেন। ইসলামী শিক্ষা ও চিন্তাধারায় তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ

কে ছিলেন ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম

আপডেট সময় ১১:০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বাংলার সবুজ পল্লি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভুবন গ্রামে ১৮৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলাম। তাঁর পিতা ছিলেন মাওলানা আনোয়ার আলী এবং মাতা জোবায়দা খাতুন। জন্মের পর পিতা তাঁর নাম রাখেন তাজুল ইসলাম, যার অর্থ ‘ইসলামের মুকুট’।

শৈশব থেকেই তিনি অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন। বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাত্র নয় মাসের মধ্যেই তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই মুখস্থ করে ফেলেন। ছেলের মেধা দেখে তাঁর পিতা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করান। তিনি হবিগঞ্জের বাহরুল উলুম মাদ্রাসা ও সিলেট আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।

সিলেটের প্রখ্যাত কারি আবদুশ শহিদ (রহ.) একবার মন্তব্য করেছিলেন, আল্লামা তাজুল ইসলামের উত্তরপত্রে কোনো ভুল বা কাটাকাটি থাকত না এবং তাঁর ভাষা ছিল অত্যন্ত শুদ্ধ ও নির্ভুল।

পরবর্তীতে তিনি ভারতের বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। সেখানে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তাফসির, ফিকহ, হাদিস ও আরবি সাহিত্যে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.), শাব্বির আহমাদ উসমানি (রহ.) ও আল্লামা ইজাজ আলীর মতো খ্যাতিমান আলেমদের সান্নিধ্যে শিক্ষা লাভ করেন।

কর্মজীবনে তিনি প্রথমে কুমিল্লার জামিয়া মিল্লিয়া এবং কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় এ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে অসংখ্য আলেম ও চিন্তাবিদ তৈরি হয়েছেন।

জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পাশাপাশি তিনি শারীরিক শক্তির জন্যও পরিচিত ছিলেন। একবার কুমিল্লা রেলস্টেশনে এক কাবুলিওয়ালার সঙ্গে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে তাকে পরাজিত করার ঘটনা নিয়ে নানা কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।

দীর্ঘ কর্মময় জীবন শেষে ১৯৬৭ সালের ৩ এপ্রিল এই বিশিষ্ট আলেম ইন্তেকাল করেন। ইসলামী শিক্ষা ও চিন্তাধারায় তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।