ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে নৈশ চুরির হিড়িক, কয়েকদিনে দফায় দফায় চুরি Logo মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ আর নেই, বয়স হয়েছিল ১০০ বছর Logo মাধবপুরে ৫ কেজি গাঁজাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক আটক Logo চুনারুঘাট-মাধবপুর সীমান্তে ৭ লাখ ২৯ হাজার টাকার গরু-মদ জব্দ Logo মাধবপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ Logo হাইমচরে কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান, আটক ৪৮ Logo জানুয়ারিতে সংসদে উঠতে পারে সংবিধান সংশোধন বিল, পাসের পর গণভোট Logo লাখাইয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, দুই বিক্রেতাকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা Logo লাখাইয়ের মুড়িয়াউক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক দশক ধরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা Logo হাইমচরে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

জবানবন্দিতে জিয়াউলকে নিয়ে যা বললেন সাবেক সেনাপ্রধান

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার জবানবন্দিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান অস্বাভাবিকভাবে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন এবং তার সময়েই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের সূত্রে তিনি জানতে পারেন, জিয়াউলের নেতৃত্বে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানান, জিয়াউল নিজের বাসভবনে অস্ত্র রাখতেন, ব্যক্তিগত গার্ড নিয়োগ দেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি স্থাপন করেন, যা সামরিক বিধির পরিপন্থী। এসব সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং পরবর্তী সময়ে তার আচরণ আরও কঠোর ও অবাধ্য হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল তাকে জানিয়েছিলেন, জিয়াউলের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তিনি কোনো নির্দেশ মানতে প্রস্তুত নন। একপর্যায়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে জিয়াউল সরাসরি সেনাপ্রধানের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে তাকে ক্যান্টনমেন্টের একটি অংশে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে সেনাবাহিনীতে স্বাধীনচেতা ও মেধাবী কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়নের সংস্কৃতি চালু হয়। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, শতাধিক গুম ও হত্যা মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে। এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে নৈশ চুরির হিড়িক, কয়েকদিনে দফায় দফায় চুরি

error:

জবানবন্দিতে জিয়াউলকে নিয়ে যা বললেন সাবেক সেনাপ্রধান

আপডেট সময় ০৭:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার জবানবন্দিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়াউল আহসান অস্বাভাবিকভাবে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠেন এবং তার সময়েই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের সূত্রে তিনি জানতে পারেন, জিয়াউলের নেতৃত্বে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানান, জিয়াউল নিজের বাসভবনে অস্ত্র রাখতেন, ব্যক্তিগত গার্ড নিয়োগ দেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি স্থাপন করেন, যা সামরিক বিধির পরিপন্থী। এসব সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং পরবর্তী সময়ে তার আচরণ আরও কঠোর ও অবাধ্য হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল তাকে জানিয়েছিলেন, জিয়াউলের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তিনি কোনো নির্দেশ মানতে প্রস্তুত নন। একপর্যায়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতার কারণে জিয়াউল সরাসরি সেনাপ্রধানের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে তাকে ক্যান্টনমেন্টের একটি অংশে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করা হয়।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে সেনাবাহিনীতে স্বাধীনচেতা ও মেধাবী কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়নের সংস্কৃতি চালু হয়। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, শতাধিক গুম ও হত্যা মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে। এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।