ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে অর্ধকোটি টাকার চোরাই মালামাল ও মাদক জব্দ, আটক ১ Logo কারাগারে ‘আমি বন্দি কারাগারে’ গানের গায়ক মুজিব পরদেশী Logo লাখাইয়ে পৈতৃক ভিটার বিরোধে প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ Logo লাখাইয়ের পুলিশের বিশেষ ফোর্স মোবিলাইজেশন Logo মাধবপুরে সোনাই নদীতে ময়লার স্তুপ, দূষণে হুমকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য Logo পরকীয়ার অভিযোগে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া Logo হবিগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬২ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ Logo কালাউক বাজারে নৈশপ্রহরীদের মধ্যে পোশাক ও আইডি কার্ড বিতরণ Logo লাখাইয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নাটকীয়তা Logo মাধবপুরের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু: দ্রুত সংস্কার না হলে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

ত্রিপুরায় নিহত ৩ বাংলাদেশি ‘চোরাচালানকারী’, দাবি ভারতের

**বাংলার খবর ডেস্ক:**

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় গণপিটুনিতে নিহত তিন বাংলাদেশি নাগরিককে চোরাচালানকারী বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বুধবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরার বিদ্যাবিল গ্রামে স্থানীয়দের হাতে তিন বাংলাদেশি পিটুনিতে নিহত হন। নিহতদের সবাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকায় এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না। এটি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন।” পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভারতের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “নিহতরা বাংলাদেশি চোরাচালানকারী ছিলেন। তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে গরু চুরির চেষ্টা করেন এবং স্থানীয়দের ওপর লোহার রড ও ছুরি নিয়ে আক্রমণ করেন। এতে একজন গ্রামবাসী নিহত ও কয়েকজন আহত হন। এরপর স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দু’জনকে মৃত এবং একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়; পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মৃতদেহ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

জয়সওয়াল বলেন, “আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা বজায় রাখতে ও চোরাচালান রোধে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সীমান্তে বেড়া নির্মাণে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”

উল্লেখ্য, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার বেশিরভাগই বেড়া দিয়ে ঘেরা। তা সত্ত্বেও সীমান্তজুড়ে গরু পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে অর্ধকোটি টাকার চোরাই মালামাল ও মাদক জব্দ, আটক ১

error:

ত্রিপুরায় নিহত ৩ বাংলাদেশি ‘চোরাচালানকারী’, দাবি ভারতের

আপডেট সময় ১২:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

**বাংলার খবর ডেস্ক:**

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় গণপিটুনিতে নিহত তিন বাংলাদেশি নাগরিককে চোরাচালানকারী বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বুধবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরার বিদ্যাবিল গ্রামে স্থানীয়দের হাতে তিন বাংলাদেশি পিটুনিতে নিহত হন। নিহতদের সবাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকায় এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না। এটি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন।” পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভারতের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “নিহতরা বাংলাদেশি চোরাচালানকারী ছিলেন। তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে গরু চুরির চেষ্টা করেন এবং স্থানীয়দের ওপর লোহার রড ও ছুরি নিয়ে আক্রমণ করেন। এতে একজন গ্রামবাসী নিহত ও কয়েকজন আহত হন। এরপর স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দু’জনকে মৃত এবং একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়; পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মৃতদেহ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

জয়সওয়াল বলেন, “আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা বজায় রাখতে ও চোরাচালান রোধে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সীমান্তে বেড়া নির্মাণে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”

উল্লেখ্য, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার বেশিরভাগই বেড়া দিয়ে ঘেরা। তা সত্ত্বেও সীমান্তজুড়ে গরু পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।