
ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়া কয়েকটি গণপরিবহণের মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এসব ঘটনায় নাশকতার পাশাপাশি বিমা সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নাশকতার সঙ্গে জড়িতরা রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তকে বিশেষভাবে ব্যবহার করছে। ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার কৌশলকে পুলিশ ‘হিট অ্যান্ড রান’ হিসেবে উল্লেখ করছে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নাশকতা প্রতিরোধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)সহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করছে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর পূর্বাঞ্চল এবং গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রথমে ককটেল বিস্ফোরণ বা ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার পর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, রেল যোগাযোগ ও মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কায় সেগুলোর নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। নাশকতার পেছনে অর্থের জোগান ও নির্দেশনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান। তার দাবি, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে রেলপথ ও রেলস্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ইনচার্জ) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। রোববার রাতে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর প্রান্তিক এলাকাগুলো নাশকতার পর দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ থাকায় অপরাধীরা এসব স্থান বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং গণপরিবহণে অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগও তারা কাজে লাগাতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
তবে এসব ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, অগ্নিসংযোগের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এবং অর্থের জোগানদাতা কারা—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















