ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে নৈমিত্তিক চুরি, দ্রুত সিসি ক্যামেরা সচলের দাবি Logo বৈষম্যবিরোধী মামলায় কারাগারে বাঘাসুরা ইউনিয়ন আ.লীগের সহসভাপতি তাজুল Logo ধর্মঘরে মাদক ও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক পথযাত্রা Logo লাখাইয়ে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ উদযাপনে পূজা মণ্ডপ কমিটি ও বিএনপির মতবিনিময় Logo হবিগঞ্জে ইজিবাইক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই আরোহী নিহত Logo হাইমচর থানায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওসির সঙ্গে বিডি ক্লিনের মতবিনিময় Logo লাখাইয়ের কৃষকদের তাক লাগানো সাফল্য, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কচুরিপানা অপসারণ যন্ত্র Logo বাসে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে নানা তথ্য Logo লাখাইয়ে ভি.ডব্লিউ.বি উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ Logo জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মাধবপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান

লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে নৈমিত্তিক চুরি, দ্রুত সিসি ক্যামেরা সচলের দাবি

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুল্লা বাজারে রাতের বেলা চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বাজারের সিসি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের। একই সঙ্গে বাজারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পাহারাদারদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের ঘাটতিকেও নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারের সাবেক সভাপতি আশিক আহমেদ রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ চৌধুরীর দায়িত্ব পালনকালে বাজারে ১০ থেকে ১২টি সিসি ক্যামেরা সচল ছিল। ফলে কোনো চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করার সুযোগ থাকত।

তবে বর্তমান বাজার কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। এতে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং চুরির ঘটনা মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। তাই দ্রুত সব সিসি ক্যামেরা মেরামত করে পুরো বাজারকে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বুল্লা বাজারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী সোনাই মিয়া বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অচল সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলে পুরো বাজারকে আধুনিক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে পাহারাদারের সংখ্যা মাত্র চারজন। পাহারা জোরদার করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খরচ বাবদ সামান্য ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও অনেকে তা দিতে আগ্রহী নন।

তিনি আরও বলেন, লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ, বাজার কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দোকানের পেছনের অন্ধকার গলিতে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে সেই উদ্যোগে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

আসাদুজ্জামান চৌধুরী সোনাই মিয়া বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনে সভাপতি ও সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা নিজেরাও পাহারায় অংশ নেবেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি রাতে পাহারাদারদের সঙ্গে চারজন ব্যবসায়ীর থাকার কথা থাকলেও অনেক সময় কেউ উপস্থিত থাকেন না। ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও বাজারের নিরাপত্তায় সক্রিয় না হলে শুধু পাহারাদার দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

বুল্লা বাজারের সভাপতি বাদশা মিয়া বলেন, অচল সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চুরি বন্ধে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চুরি প্রতিরোধে শুধু সিসি ক্যামেরা সচল করাই নয়, রাতের পাহারা জোরদার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় জরুরি। এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বুল্লা বাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে নৈমিত্তিক চুরি, দ্রুত সিসি ক্যামেরা সচলের দাবি

error:

লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে নৈমিত্তিক চুরি, দ্রুত সিসি ক্যামেরা সচলের দাবি

আপডেট সময় ১১:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুল্লা বাজারে রাতের বেলা চুরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বাজারের সিসি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের। একই সঙ্গে বাজারের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পাহারাদারদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের ঘাটতিকেও নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারের সাবেক সভাপতি আশিক আহমেদ রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ চৌধুরীর দায়িত্ব পালনকালে বাজারে ১০ থেকে ১২টি সিসি ক্যামেরা সচল ছিল। ফলে কোনো চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করার সুযোগ থাকত।

তবে বর্তমান বাজার কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। এতে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং চুরির ঘটনা মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। তাই দ্রুত সব সিসি ক্যামেরা মেরামত করে পুরো বাজারকে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বুল্লা বাজারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী সোনাই মিয়া বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অচল সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করলে পুরো বাজারকে আধুনিক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে পাহারাদারের সংখ্যা মাত্র চারজন। পাহারা জোরদার করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খরচ বাবদ সামান্য ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও অনেকে তা দিতে আগ্রহী নন।

তিনি আরও বলেন, লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ, বাজার কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দোকানের পেছনের অন্ধকার গলিতে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে সেই উদ্যোগে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

আসাদুজ্জামান চৌধুরী সোনাই মিয়া বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনে সভাপতি ও সাংগঠনিক টিমের সদস্যরা নিজেরাও পাহারায় অংশ নেবেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি রাতে পাহারাদারদের সঙ্গে চারজন ব্যবসায়ীর থাকার কথা থাকলেও অনেক সময় কেউ উপস্থিত থাকেন না। ব্যবসায়ীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও বাজারের নিরাপত্তায় সক্রিয় না হলে শুধু পাহারাদার দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

বুল্লা বাজারের সভাপতি বাদশা মিয়া বলেন, অচল সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চুরি বন্ধে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চুরি প্রতিরোধে শুধু সিসি ক্যামেরা সচল করাই নয়, রাতের পাহারা জোরদার, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় জরুরি। এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বুল্লা বাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা।