
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুত করা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের রোডম্যাপে কয়েকটি পূজামণ্ডপ ও এলাকা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় রোডম্যাপ প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাধবপুর পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা ও পৌর পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তুত করা রোডম্যাপে মাধবপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্যসচিব রিংকু দেবনাথ এবং পৌর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিন বণিকের বাড়ির পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া বাঘাসুরা ইউনিয়ন ও পাঁচটি চা-বাগান এলাকার পূজামণ্ডপও রোডম্যাপের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্গাপূজার সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে রোডম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কোনো পূজামণ্ডপ বা এলাকা বাদ পড়লে তার কারণ সংশ্লিষ্টদের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এদিকে বাঘাসুরা ইউনিয়ন ও চা-বাগান এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পূজার রোডম্যাপ তৈরির সময় এলাকার বাস্তবতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
রোডম্যাপ তৈরিতে সমন্বয়হীনতা কিংবা সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বক্তব্য এবং রোডম্যাপ তৈরির প্রক্রিয়া যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো পূজামণ্ডপ বা এলাকাকে তালিকার বাইরে রাখার কারণ স্পষ্ট করা হলে ভুল-বোঝাবুঝি ও সাংগঠনিক বিরোধ কমানো সম্ভব।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের মতে, পূজার আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দলমত-নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে লিটন রায়ের অতীতে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পূজার রোডম্যাপ প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা বা সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংগঠনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















