
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বিবরণী বিতরণ পদ্ধতি ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে সরাসরি শিক্ষকদের হাতে বেতন বিবরণী না দিয়ে ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাধবপুর বাজারের একটি বেসরকারি কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান থেকে তা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের দাবি, সাধারণত বেতন বিবরণীর প্রয়োজন হলে শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন এবং সেখান থেকে প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকের ব্যক্তিগত ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপেও পিডিএফ কপি পাঠানো হয়ে থাকে। আবার কিছু শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ই-মেইলে শিক্ষকদের বেতন বিবরণী পাঠিয়ে থাকে।
শিক্ষকদের আয়কর রিটার্ন দাখিল, ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেতন বিবরণী প্রয়োজন হয়। এতে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য থাকায় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এ ধরনের নথি বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাধবপুরে এর আগে প্রচলিত নিয়মে বেতন বিবরণী সরবরাহ করা হলেও চলতি বছর ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অর্নব কম্পিউটার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষকদের তা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর আগে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম, আইপিএমইএস, উপবৃত্তি ও স্লিপ প্ল্যানসহ বিভিন্ন কাজের কাগজপত্র তৈরির অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অনলাইন কার্যক্রমে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড-সংক্রান্ত তথ্যও ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর কাছে থাকার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোনো শিক্ষক বা বিদ্যালয় অনলাইনে তথ্য হালনাগাদ কিংবা আবেদন করলে তা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ের পর ফরওয়ার্ড করার কথা। তবে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ওই কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানে যেতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অর্নব কম্পিউটারের কর্ণধার তাপস রায়ের সঙ্গে বাংলার খবরের পক্ষ থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁদের একজন কর্মী ভুলবশত ওই পোস্টটি করেছেন। তিনি আরও জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএফ ও এগ্রিমেন্ট বিতরণ করা হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কবির হোসেন বলেন, “আমি দ্রুতই বিষয়টি দেখতেছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি জানান, শিক্ষকদের আবেদনের পর বেতন বিবরণী উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ই-মেইলে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, কোনো দোকান এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে না।
শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















