
সরকারি উদ্যোগ ও বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘এনার্জি সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ: ফ্রম ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টু এ রেজিলেন্ট এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নানা সংকটে ছিল। আর্থিক চাপের পাশাপাশি এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতিও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনে আগের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করে তোলার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষ, শিল্প খাত ও বিনিয়োগের ওপর।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পাইপলাইন উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া হবে। কেন্দ্রটি ২০২৭ সালে পূর্ণ সক্ষমতায় যেতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান উপদেষ্টা।
এলপিজির দাম কমানোর বিষয়েও সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, ভিএলসি কার্গোর মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস আমদানির সুযোগ তৈরি হলে এলপিজির বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং সাধারণ ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে এলপিজি পেতে পারেন।
জ্বালানি নীতি নির্ধারণে স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্তের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য এবং ধীরে ধীরে আরও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ জন্য এমন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেও ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলা করতে সক্ষম।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























